‘শীঘ্রই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোর্স কারিকুলার পরিবর্তন করা হবে’ – কৃষিমন্ত্রী

৮:২৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন
razzak

হাবিবুর রনি, বাকৃবি প্রতিনিধিঃ টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য কৃষিবাণিজ্যিকীকরণ অপরিহার্য। আর এর জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েটদের উৎপাদন সংক্রান্ত জ্ঞানের পাশাপাশি মার্কেটিং পলিসি, সাপ্লাই চেইন, ম্যানেজমেন্ট, যোগাযোগ ও নেতৃত্ব প্রদানের দক্ষতা এবং প্রযুক্তি জ্ঞানের কোন বিকল্প নেই। দক্ষ কৃষি গ্রাজুয়েট তৈরী করতে খুব শীঘ্রই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোর্স কারিকুলার পরিবর্তন করতে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (০৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় আগামীর বাংলাদেশ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দক্ষ গ্রাজুয়েট তৈরিতে আধুনিক কোর্স কারিকুলার ভূমিকা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সেমিনারে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

ভার্চুয়াল সেশনে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে কৃষির নতুন বিষয় এগ্রিবিজনেসসহ কৃষির সকল বিষয়ের গ্রাজুয়েটদের বানিজ্যিকীকরনের স্বার্থে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গবেষনা প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। এছাড়াও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি উইং খোলা এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করে তরুন উদ্যোক্তাদের ফান্ডিং করা প্রয়োজন। এছাড়াও ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সিস্টেম (এনএআরএস) এর অধীনে বাংলাদেশে অন্যান্য কৃষি গবেষনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো স্বতন্ত্র এগ্রিবিজনেস গবেষনা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা প্রয়োজন এবং পাশাপাশি বর্তমানে যে কৃষি গবেষনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোতে প্রতিটি শস্যের জন্য আলাদাভাবে এগ্রিবিজনেস উইং চালু করা প্রয়োজন যার মাধ্যমে ঐ শস্যের বানিজ্যিকীকরন নিয়ে আরও বেশি কাজ করা যাবে।

এছাড়াও ভার্চুয়াল সেশনে বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর প্রফেসর ড. আতিউর রহমান লেখাপড়া শেষ করে চাকরির অপেক্ষা না করে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণমুখী ও গবেষণায় উৎসাহী করতে হবে যাতে দেশ গঠনে তারা ভূমিকা পালন করতে পারে। সমকালীন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আমাদের কোর্স কারিকুলার আধুনিকায়ন অনেকদূর এগিয়েছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমাদের গ্রাজুয়েটদের টিকে থাকতে হলে তাদের জ্ঞানবান হতে হবে। এ জন্য আমাদের গ্রাজুয়েটদের ইংরেজি ও আইসিটি জ্ঞান আরও বাড়াতে হবে। এছাড়াও তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতক পর্যায়ে কারিকুলার আধুনিকায়ন করে উৎপাদনের জ্ঞানের সাথে কৃষি ব্যবসায়ের জ্ঞান অন্তর্ভূক্ত করা উচিত বলে মনে করেন।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, দক্ষ কৃষিবিদ এবং কৃষিবিজ্ঞানী তৈরি করার পাশাপাশি কৃষি গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রসার করার জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ অবদান রেখে চলেছে।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুর রহমান খান বলেন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মানে কৃষির কোর্স কারিকুলার আধুনিকায়নের বিকল্প নাই। আমাদের সিলেবাসকে কৃষি শিল্পের সাথে মিল রেখে তৈরী করতে হবে। কৃষির সব ক্ষেত্রে ইন্টার্নশীপ চালু করতে হবে।

কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলেন, কৃষির গ্রাজুয়েটদের প্রায়োগিক ও বাস্তবিক জ্ঞান অর্জনের জন্য ইন্টার্নশিপ থাকা প্রয়োজন।

ন্যাশনাল এ্যাগ্রিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এস. এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকল অনুষদের গ্র্যাজুয়েটদের বাণিজ্যিক জ্ঞানের জন্য বিশেষ করে কৃষির ছাত্রদের ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত থাকা উচিত।

ভার্চুয়াল সেমিনারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সাত্তার মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষা সচিব এন. আই খান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জ্বল ইসলামসহ আরও অনেকে।

ভার্চুয়াল সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন শেকৃবির অধ্যাপক ড. তুহিন শুদ্র রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর আহমেদ মুকুল ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ইসরাত জাহান টুম্পা।