প্রকাশ্যে এএসআইকে চড় মারলেন ওসি, ভিডিও ভাইরাল

১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, বরগুনা- শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ না করার কারণে বরগুনার বামনা থানার ওসি ইলিয়াস আলী তালুকদার একই থানার এএসআই পদমর্যাদার এক পুলিশ সদস্যকে অনেক মানুষের সামনে প্রকাশ্যে চড় মেরেছেন।

পুলিশের গুলিতে নিহত সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গে থাকা ভিডিওচিত্রগ্রাহক সাহেদুল ইসলাম সিফাতের নিজ বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলায় তার মুক্তির দাবিতে শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষার্থীদের এক কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে।

এএসআইকে ওসির চড় মারার একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বামনা থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেনের সমালোচনা করছেন অসংখ্য মানুষ। ওসি ইলিয়াস হোসেন শত শত মানুষের সামনে যে এএসআইকে চড় মেরেছেন তিনিও বামনা থানায় কর্মরত।

ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি ইলিয়াস আলী প্রথমে উত্তেজিত হয়ে থানার এক সাব ইন্সপেক্টরকে চরথাপ্পর দেন। এসময় চিৎকার করে তিনি বলেন, কী করেন আপনারা? পিটান সবাইকে। পরে ওসি নিজেই শিক্ষার্থীদের পেটাতে শুরু করেন।

এর আগে পুলিশ এসে প্রথমে মানববন্ধনের ব্যানার ও মাইক ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে সিফাতের বন্ধুরা মানববন্ধন চালিয়ে গেলে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার ছুটে এসে মানববন্ধনরত শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা শুরু করেন। এতে ৪ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন মো. রুবেল, ইমরান, রায়হান ও মিথুন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সিফাতের নিজগ্রাম বরগুনার বামনায় মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করে সিফাতের সহপাঠীরা। বামনার কলেজ রোড সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে চলা মানববন্ধনে হঠাৎ বামনা থানা পুলিশের একটি টিম এসে ব্যানার ফেস্টুন ছিনিয়ে নেয়। এরপরও শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল মানববন্ধন কর্মসূচি।

এর একটু পরই বামনা থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন ঘটনাস্থলে এসেই অংশগ্রহণকারীদের গালমন্দ শুরু করে লাঠি চার্জের নির্দেষ দেন। এ সময় লাঠিচার্জ শুরুর আগেই ওসি ইলিয়াস হোসেন উত্তেজিত হয়ে ওই এএসআইয়ের বাম গালে কষে একটি চড় বসিয়ে দেন। প্রকাশ্যে এক পুলিশ সদস্যের গালে অপর পুলিশ সদস্যের চড় দেয়ার এ দৃশ্য দেখে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অতঙ্ক দেখা দেয়ায় তারা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।

এরপরও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের উপর লঠিচার্জ করে পুলিশ। আর চড় খাওয়ার পরও ওই এএসআই ওসি ইলিয়াস হোসেনের নির্দেশনা পালন করেন। এছাড়াও মানববন্ধনস্থলেই ওসি ইলিয়াস হোসেন তার অধনস্ত পুলিশ সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন বলেও জানান প্রতক্ষদর্শীরা।

মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলেন। হঠাৎ সেখানে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হাজির হন ওসি ইলিয়াস। পুলিশ প্রথমেই মানববন্ধনের ব্যানার ও মাইক ছিনিয়ে নেয়। এরপরও সিফাতের বন্ধুরা মানববন্ধন চালিয়ে গেলে ওসি ইলিয়াস দৌড়ে এসে নিজেই লাঠিপেটা শুরু করেন। একই সঙ্গে তিনি মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারীদের দুষ্কৃতিকারী বলে উল্লেখ করেন।

পুলিশের লাঠিচার্জে আহত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করা রুবেল বলেন, মিথ্যে মামলায় নির্দোষ সিফাত জেলে থাকায় ওর মুক্তির জন্য মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এ সময় বামনা থানার ওসি এসে আমাদের উপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেন।

তিনি আরো বলেন, সিফাতের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করায় পুলিশ আমাদের দুষ্কৃতিকারী বলে আখ্যা দিয়েছেন। গালাগাল করেছে। এছাড়াও নাতির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে আসায় সাংবাদিকদের সামনে সিফাতের নানা মো. আইউব আলী হাওলাদারকে গালমন্দ করার পাশাপাশি হুমকি প্রদান করে পুলিশ।

সিফাতের নানা মো. আইউব আলী হওলাদার বলেন, পুলিশ আজ যা করেছে তা মোটেও ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে ওই সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে খুব হতাশায় ভুগছি। পারিবারিক এবং সামাজিক দিক দিয়ে চরম লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছি। তাই এ বিষয়ে আমি কথা বলতে চাচ্ছি না।’

তবে এ বিষয়ে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।