টাঙ্গাইলে বিএডিসির আবাদযোগ্য ২৫০ একর জমি বন্যার পানিতে প্লাবিত

৩:১২ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোটার: টাঙ্গাইলের মধুপুর বিএডিসির আবাদযোগ্য ২৫০ একর জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। চারা প্রস্তুত থাকলেও আমন চাষে চারা রোপণ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। চারার বয়স বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে বীজ উৎপাদনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএডিসি সূত্রে, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কাকরাইদস্থ বিএডিসির খামার-দেশের অন্যতম বীজ উৎপাদন খামার। প্রতি বছর এ খামারের ৩৪৫ একর আবাদি জমির উৎপাদিত ধানসহ নানা ফসল বিশেষ করে আলু, ভুট্টা ইত্যাদি বীজ বিএডিসির মাধ্যমে সারাদেশে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ হয়ে থাকে। বিএডিসির মধুপুর খামারের ওই ৩৪৫ একরের মধ্যে ২৫০ একর জমি বন্যার পানিতে ডুবে আছে। শুধু সাইন বোর্ডটি জেগে আছে।

গত (৮ জুলাই) হতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। খামারটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুজা খাল ও পাশের বংশাই নদীর উপর দিয়ে উপচে পড়ার কারণে এর আবাদি জমির প্রায় পুরোটাই পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জমির উপর এখন কোমর সমান পানি। প্রায় প্রতি বছর নদী খালের পানিতে প্লাবিত হলেও চাষ করার আগেই নেমে যায়। জমির উপরিভাগে পলি পড়ে ফসলও ভালো হয়। কিন্তু এবারের বন্যায় খামারের চলতি আউশ মৌসুমের ৪৫ একর জমির মধ্যে ব্রি-৪৮ জাতের ধান ৫ একর জমির বীজ ফসল নিমজ্জিত হয়ে আছে। এতে কাইচ থোড় অবস্থা থাকায় ওই আউশ ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিএডিসির চাষবাসের প্রস্তুতি থাকার পরও বন্যার পানিতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বিএডিসির উপ-পরিচালক (খামার) সঞ্জয় রায় এমন তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বিএডিসির নানামুখী প্রচেষ্টার কারণে আমন ২০২০-২১ মৌসুমের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ না হলেও আমন মৌসুমের রোপণকৃত ব্রি ধান ৮৭ জাতের ১০ একর এবং বিনা ধান ১৭ জাতের ১২ একরসহ ২২ একর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ব্যপক ক্ষতির মুখে রয়েছে। চলতি আমন ২০২০-২১ মৌসুমের ২৪২ একর জমিতে প্রায় ৩৮৫ মেট্রিক টন লক্ষ্য মাত্রার বিপরীতে কেবল ৬০ একর জমি রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। অতিদ্রুত বিশেষ করে মধ্য আগস্টের মধ্যে জমি থেকে এ পানি না নামলে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাবে। চারার বয়স বৃদ্ধি পেয়ে রোপণ অনুপযোগী হয়ে পড়লে বীজ উৎপাদন নিয়েও তৈরি হবে সংকট।

তবে, এ সময়ের মধ্যে পানি নেমে গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিএডিসি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে বলেও উপ-পরিচালক সঞ্জয় রায় নিশ্চিত করেছেন।