এবারের ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরেছে ২৪২ প্রাণ, আহত ৩৩১

৩:২৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা এবারের ঈদে যাতায়াত সীমিত হলেও সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি। সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে ২৩৮টি দুর্ঘটনায় ৩১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

রোববার (০৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২০ প্রকাশকালে এ তথ্য তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গত ২৬ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৩ দিনে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত ও ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখিত সময়ে রেলপথে চারটি ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌপথে ৩৩টি ছোট-বড় বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত, ৩৯ জন আহত ও ১৭ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় গত ৪ আগস্ট। এদিন ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় গত ৮ আগস্ট। এদিন আটটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় একদিনে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৪ আগস্ট। এদিন ৩২ জন নিহত হয়। একদিনে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয় গত ৩১ জুলাই। এদিন ৫৫ জন আহত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একইসময়ে ৮৮ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত ও ৬৫ আহত হন। এ বছর মোট সংঘটিত ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনার ৮৮টি ঘটেছে মোটরসাইকেলের সঙ্গে অন্য যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটনা, যা মোট দুর্ঘটনার ৪৩.৭৮ শতাংশ। যেখানে মোট নিহত হওয়ার ৪৩.০৮ শতাংশ এবং মোট আহতের ১৯.৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা ৫২.২৩ শতাংশ ঘটেছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১০২ জন চালক, ৬৩ জন পথচারী, ৩৮ জন নারী, ৩০ জন শিশু, ১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ১১ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাতজন শিক্ষক, সাতজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দু’জন সাংবাদিক ও একজন প্রকৌশলীর পরিচয় মিলেছে।

নিহতদের মধ্যে দু’জন পুলিশ সদস্য, একজন সেনাবাহিনীর সদস্য, একজন বিমানবাহিনীর সদস্য, একজন সিআইডির সদস্য, ৮৫ জন চালক, ৫০ জন পথচারী, ৩২ জন নারী, ২৪ জন শিশু, আটজন শিক্ষার্থী, ছয়জন শিক্ষক, নয়জন পরিবহন শ্রমিক, একজন প্রকৌশলী, চারজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছিল।