‘ভারতের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে বাংলাদেশের মুক্তি নেই’- ডা. জাফরুল্লাহ

৬:০৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
jaf

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ “ভারতের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে বাংলাদেশের মুক্তি নেই” বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ভারত প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশিদের মারলেও আমাদের কোনো আওয়াজ নেই। অথচ নেপাল এ বিষয়ে সংসদে আইন করে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

রোববার (৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত ‘খরাকালে পোড়াও, বর্ষাকালে ভাসাও’ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের এই নীতি প্রয়োগের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রক্তের’- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ভারতের রক্তের সম্পর্ক। এই রক্ত তো দূষিত রক্ত। এই দূষিত রক্ত দিয়ে কী হবে? পরিচ্ছন্ন রক্ত দরকার। তাদের সজ্জন হওয়া দরকার।’

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এটা কী ওসি প্রদীপের ঘটনা, নাকি এর সাথে…যুক্ত আছে। এটাকে পরিষ্কারভাবে পরীক্ষা করা দরকার। এ জন্য পুলিশি তদন্ত দিয়ে হবে না। একটা স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে। ১০ শতাংশ পুলিশ আছে যারা প্রদীপের মতো, বাকিরা সজ্জন। এ ঘটনায় যদি কমিশন গঠন না হয় সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক।’

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখে আছি। সম্প্রতি ঈদ গেল। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে ২৫ কোটি মানুষ তাদের নিজের ধর্ম পালন করতে পারেনি। তারা গরুর মাংস খেতে পারলো না। অথচ হিন্দুরা চিরকাল নরেন্দ্র মোদির পূর্বপুরুষরা গরুর মাংস খেত। চোখ অন্ধ ভারত ২৫ কোটি মুসলমানকে ধর্ম পালন করতে দিচ্ছে না।’

‘একটা কাল্পনিক কাহিনিকে ভিত্তি করে তারা রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছে। মহাভারত, রামায়ণ দুটোর মধ্যেই প্ররোচনা ও মিথ্যাচারের গল্প-কাহিনি রয়েছে। তাদের গল্প-কাহিনির ওপর ভিত্তি করেই ৫০০ বছরের পুরোনো বাবরি মসজিদ ভেঙে দিয়ে সেখানে আজগুবি রামমন্দির নির্মাণ করছে ভারত। এটা জাতির একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা বাংলাদেশ এটার বিরুদ্ধে একটা কথাও বলিনি।’

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় ছিল মন্দির যেমন হবে তার চেয়েও বড় করে অযোদ্ধা মসজিদ করতে হবে। মন্দির তৈরি হলেও মসজিদ তৈরির কোনো কিছুই নেই, এটাই হচ্ছে ভারত।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের নামে বন্যার সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশে বন্যার জন্য ভারতকেও দায়ী করেন। এ ছাড়া সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকার ভারতের তাঁবেদারি করে। ভারতের সরকারের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় আসে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা হত্যা পরিকল্পিত উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক বলেন, এর পেছনে কুশীলবেরা রয়েছেন।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাসদ নেতা বজলুর রশীদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।