টাঙ্গাইলে রাস্তার উন্নয়নে ‘অবৈধভাবে’ বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে ব্রীজ


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার- পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজসে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারাবাড়ি ব্রীজের ১০০ গজ দক্ষিণ থেকে নৌকায় অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। মাটি সরে যে কোন সময় ভেঙ্গে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তাই হুমকির মুখে রয়েছে ব্রিজটি।

এর আগে (১৮ জুলাই) ব্রীজটির বাম তীরের অ্যাপ্রোচ ধসে পশ্চিমাঞ্চলের সাথে যানচলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চরাঞ্চলের কাতুলী, হুগড়া, ককুয়া, মাহমুদনগর ও নাগরপুরের ভাড়রা ইউনিয়নে লক্ষাধিক মানুষ।

জানা যায়, গত ২০০৬ সালের (১ জুন) এলজিইডির তত্ত্বধানে নির্মিত হয় ১৭০.৬৪২ মিটার চারাবাড়ি তোরাপগঞ্জ সড়কের ধলেশ্বরী নদীর উপর এই ব্রীজ। চলতি বন্যায় ব্রীজের ৫০ গজ পশ্চিম রাস্তা ভেঙ্গে ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে ওই সড়কের পথচারী ও যানবাহন। রাস্তার পাড় মেরামতের জন্য ৩০ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ করে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেখানে ৭ হাজার বস্তা ফেলে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হবে। কাজটির দায়িত্ব দেওয়া হয় ওই এলাকার মেসার্স মিতু এন্টার প্রাইজের স্বত্তাধিকারী ইমরান হোসেনকে। এর আগে ওই ব্রীজের অ্যাপ্রোচ ভরাটের কাজটিও পেয়ে ছিলো এই একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই অ্যাপ্রোচ ভরাটেও অনিয়ম করেছিলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিন, ওই ব্রীজের ১০০ গজ দক্ষিন পাশ থেকে দুটি নৌকায় অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে আরেকটি নৌকায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখানে তিন জন শ্রমিক কাজ করছেন। ব্রীজের পশ্চিম পাশে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক বালু বস্তা ভরাটের কাজ করছে। আর তার পাশেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকজন জানান, ব্রীজের পাশ থেকে বালু উত্তোলন করে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। এক দিয়ে রাস্তার উন্নয়ন হলেও অন্যদিকে ব্রীজের জন্য চরম ক্ষতি হচ্ছে। যে কোন মুহুর্তেই ব্রীজ ভেঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হতে পারে। তারা প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ দিকে সিএনজি যাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের লাভের জন্য ব্রীজের ক্ষতি করে রাস্তার উন্নয়ন করছেন। এমন উন্নয়ন আমরা চাইনা। অন্য কোন জায়গা থেকে বালু এনে রাস্তার পাশে বস্তা ফেলার দাবি করেন তিনি।

অন্য দিকে ট্রাক চালক আব্দুল হাই জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজসে যে ভাবে ব্রীজের খুব কাছ থেকে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে তাতে তো হুমকির মুখে ব্রীজটি। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার রুবেল মিয়া জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোথা থেকে বালু এনে ভরাট করতে সেটা তাদের ব্যাপার। ব্রীজ হুমকির মুখে থাকলেও তাদের কিছু করার নাই।

অন্যদিকে, মেসার্স মিতু এন্টার প্রাইজের স্বত্তাধিকারী ইমরান হোসেনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, ব্রীজের দক্ষিন পাশে চর পড়ে আছে। চরটি কাটলে ব্রীজের জন্য ভাল হবে। এতে ব্রীজের কোন ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন