সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘ক্রসফায়ারের শুরু’ খালেদা জিয়ার আমলে: হাছান মাহমুদ

৭:০৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যু নিয়ে সমালোচনার ‍মুখে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিচার বহির্ভূত হত্যা আওয়ামী লীগ সমর্থন করে না।

“এই ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি খালেদা জিয়া সরকার শুরু করেছিল,” বলেন তিনি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ‘জাতীয় শোক দিবস ২০২০’ উপলক্ষে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ- আইডিইবি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, “আজকে বিএনপি নেতারা ক্রসফায়ার নিয়ে কথা বলেন! এই ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি বেগম খালেদা জিয়া শুরু করেছিল। তখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, “আমাদের দল কোনো ধরনের বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে না।”

তথ্যমন্ত্রী এসময় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে শহীদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সব সদস্য, শহীদ জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ। যেসব দেশি-বিদেশি চক্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা ভেবেছিল, বাংলাদেশ কখনও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ তিন কোটি গৃহহারা মানুষকে পুনর্বাসন করে পোড়ামাটির ধ্বংসস্তুপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ৭.৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে সমৃদ্ধির পথে এগুতে শুরু করলো, তখন সেই সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়।

স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড পরিচালনার ধারাবাহিকতায় দেশবিরোধী অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করার, পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এসবই ছিল একটি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকে হত্যার ষড়যন্ত্র।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু আইন করে আমাদের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে বিদেশি মালিকানা থেকে উদ্ধার করে দেশের মালিকানায় নিয়ে আসেন। আজ আমরা আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি সমুদ্রসীমার মালিক হয়েছি। এটি কখনই হতো না, যদি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত পরিষদ আনক্লস’র সদস্য না হতেন, সেই সংক্রান্ত চুক্তি সই না করতেন। আর যে ছিটমহল চুক্তিকে অনেকে গোলামির চুক্তি বলতেন, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর করা সেই চুক্তির আলোকেই আজ আমাদের স্থলসীমা বেড়েছে।

‘বঙ্গবন্ধু তার সব স্বপ্নপূরণ করে যেতে পারেননি, কিন্তু তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে’- বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, পাঁচমাসের করোনাভাইরাস মহামারিতে অনেক কিছু বন্ধ থাকলেও কেউ অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি, আমরা বিদেশে সাহায্য পাঠিয়েছি। এমনকি আমাদের রফতানি আয় গত বছরের চেয়ে বেড়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ আজ খাদ্যে উদ্বৃত্ত, স্বল্পোন্নত থেকে মধ্যম আয়ের কাতারে উন্নীত। কিন্তু এসব উন্নয়ন অগ্রযাত্রা বিএনপি ও তাদের সমমনা যারা চোখ থাকতেও দেখে না, কান থাকতেও শোনে না, তারা যেন আর অন্ধ-বধিরের মতো আচরণ না করে।