• আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় তিন দফার বন্যায় দুই লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

২:১০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

ফরহাদ আকন্দ, নিজস্ব প্রতিবেদক: পরপর তিন দফার দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় গাইবান্ধার ছয় উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়নের ৩৫ হাজার ৫৫১টি পরিবার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের প্রায় দুই লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ জন মানুষ রয়েছে।

এদের মধ্যে কেউ ঘরবাড়ি ও পুকুরের মাছ, কেউ জমির ফসল হারিয়ে হয়েছেন দিশেহারা। বন্যা দুর্গত এলাকায় পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শিশুসহ চার জনের। বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে ছয় উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার তিন হাজার ২৩৬ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বন্যার পানিতে তলিয়ে বীজতলা, আউশ ধান, পাট, ভুট্টা, বাদাম ও শাকসবজিসহ গাইবান্ধা জেলার দুই হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হেক্টর বীজতলা, এক হাজার ৯০০ হেক্টর পাট, ৪০ হেক্টর বাদাম, ১৬০ হেক্টর আউশ ধান ও ২৭০ হেক্টর জমির শাকসবজি নষ্ট হয়। সব মিলে এবার বন্যায় প্রায় ১২ কোটি ৭২ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গাইবান্ধার প্রায় ২৭ হাজারকৃষক। ফলে পরবর্তী চাষাবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এসব কৃষকরা।

দফায় দফায় বন্যার পানিতে ভেসে গেছে গাইবান্ধা জেলার ছয় উপজেলার ছোট-বড় ৯৪৩টি পুকুর ও খাল-বিলের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। সেই সঙ্গে পানির চাপে পুকুরের পাড়ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পুকুর ও জলাশয়ে বিভিন্ন এলাকার ৬৭৭ জন পেশাদার মৎস্যচাষি মাছ চাষ করেন। কিন্তু বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ায় এসব মৎসজীবী স্বল্প পুঁজি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। মাছ ভেসে যাওয়ায় গাইবান্ধার মৎস্যজীবীদের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আর্থিক প্রণোদনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মৎস্য অধিদফতরে আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে, বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্গত এলাকার ২৪.২০ কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক। আংশিক ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৩টি ছোট ব্রিজ ও কালভার্ট। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫২টি স্থান। বাঁধ ও রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, উজানের ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিপাতে গাইবান্ধা জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সাদুল্লাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাসহ ছয়টি উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। তিন দফা বন্যার কারণে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের ৩৫ হাজার ৫৫১টি পরিবারের ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৮৬ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে ডুবে শিশুসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বন্যায় অন্য যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো কাজ করছে বলে জানান জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন।

তিনি আরও জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় দুর্গত এলাকার মানুষরা ঘরে ফিরছেন। এ পর্যন্ত বন্যার্তদের মধ্যে ৫১০ মে. টন চাল, ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৫ হাজার ৬৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

চিকিৎসা সেবায় ৮০টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস চাষের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক।