• আজ ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাড়ছে রহস্য! খুন নাকি নিছক দুর্ঘটনা? মুখ খুলছেনা আটক দুই বন্ধু!

৩:৩১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০ ঢাকা
savar likhon school chatro

সময়ের কণ্ঠস্বর, সাভার,ধামরাই প্রতিনিধি – ঢাকার ধামরাইয়ে দুই বন্ধুর সঙ্গে বংশী নদীতে গোসল করতে নেমে ‘নিখোঁজ’ নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্র মো. লিখন হোসেনের (১৭) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে বংশী সেতুর তলদেশ থেকে লাশটি উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।

লিখন হোসেন ধামরাই পৌরশহরের ৫নং ব্লকের ঘড়িদারপাড়া মহল্লার মো. আবুল হোসেনের ছেলে। সে পৌরশহরের রফিক রাজু ক্যাডেট একাডেমির ৯ম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দুই বন্ধুর সঙ্গে বংশী নদীতে গোসল করতে গিয়ে লিখন হোসেন নামের ঐ স্কুলছাত্র রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনার পর বাড়ি থেকে লিখনকে নিয়ে যাওয়া দুই বন্ধুকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, ধামরাই পৌরসভার পাঠানতোলা এলাকার আনছার উদ্দিনের ছেলে দিপ (১৮), ও একই এলাকার সিদ্দিক দেওয়ানের ছেলে ইমন দেওয়ান (২০)। এ ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শোকের ছায়া। প্রথম থেকেই সন্দেহের মুখে থাকা আটককৃত দুই বন্ধু পুলিশের ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখেও মুখ খোলেননি এখন অবধি!

পুরো ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে, এমন কিশোর বয়সে কেনইবা খুন হবে লিখন ? কোন শত্রুতার কারনে ঘনিষ্ঠ স্কুল সহপাঠীরাই বা তাকে নির্মম কায়দায় খুন করে থাকতে পারে, এসব নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

লাশ উদ্ধারের পর প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুয়ের কণ্ঠস্বরকে জানিয়েছে, লাশের গায়ে, মুখমণ্ডল ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল থেকে পুলিশ হেফাজতে থাকা লিখনের দুই বন্ধুকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।

এদিকে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে লিখনের বরাতনগর মডেল টাউনের বন্ধু লিমন ও পাঠানটোলা মহল্লার বন্ধু লিটন একটি মোটরসাইকেল নিয়ে লিখনদের বাড়িতে আসে। এরপর তারা সদর ইউনিয়নের হাজিপুর এলাকায় নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন বংশী সেতুর তলদেশে গোসল করার কথা বলে বের হয়ে যায়। ওই সেতুর নীচে নদীতে গোসল করতে নামে ওই তিনবন্ধু।

লিখন সাঁতার না জানায় সে ডুব দেয়ার পর আর ওপরে উঠেনি নাকি তাকে ওই দুই বন্ধু হত্যা করে পানিতে ফেলে দিয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে লাশের গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ; যদিও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদেও এখনও মুখ খোলেনি লিখনের ওই দুই বন্ধু।

এ ব্যাপারে ধামরাই থানার ওসি (অপারেশন) মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, লিখনের মৃত্যু নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। লিখনের দুই বন্ধুকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ওই দুজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।