সংবাদ শিরোনাম
বুক ফাটা আহাজারিতে আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হাটহাজারীর বাতাস | টাঙ্গাইলে এক উপজেলার ইউপি সদস্য, অন্য উপজেলায় পৌর যুবদলের আহবায়ক | ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের ধাওয়া খেয়ে নদীতে লাফ, বাংলাদেশির মৃত্যু | পঞ্চগড়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা | ইন্টারনেটে ‘গোপন ছবি’ প্রকাশের হুমকি দিয়ে নারীদের ব্ল্যাকমেইল, যুবক গ্রেফতার | এক নজরে আল্লামা শফীর জীবনী | তিন মাস পর মিয়ানমার থেকে এলো ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ | নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের দুইদিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার | বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে যাওয়ায় প্রেমিকাকে মারপিট! | রংপুরে গাঁজা ও ফেন্সিডিলসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার |
  • আজ ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু ও ধানমন্ডি ৩২

৩:৪৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০ ইতিহাস-ঐতিহ্য

ইতিহাস-ঐতিহ্য ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধু ও ধানমন্ডি ৩২, একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই বাড়িটি বঙ্গবন্ধুর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সাক্ষী। ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটি বাংলাদেশ জন্ম ইতিহাসের সূতিকাগার। বাড়িটিকে একখণ্ড বাংলাদেশও বলা যায়। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বাড়িটি তীর্থস্থান হিসেবেই বিবেচিত হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর থেকে এই বাড়িতে বসবাস করা শুরু করেন। এই বাড়িকে অবলম্বন করেই স্বাধিকার আন্দোলনের সূত্রপাত। আর এ বাড়ি থেকেই তিনি দিয়েছিলেন স্বাধীনতার ঘোষণা। সারাদেশের মানুষ প্রতিটি রাজনৈতিক নির্দেশনার জন্য তাকিয়ে থাকত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের এই বাড়িটির দিকে। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ এর নির্বাচন পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলনের সময় এই ৩২ নম্বরের সামনে ভিড় জমে যেত। সবাই নেতার নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনতেন। কখন বঙ্গবন্ধু তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন সেই প্রত্যাশায় দিন কাটতো মুক্তিপাগল বাঙালির। যেন বাঙালির প্রাণভোমরা এইখানে, এই বাড়িতে।

বাঙালির প্রাণের, প্রেরণার উৎস যে এই বাড়িটি তা খুব ভালো বুঝেছিল স্বাধীনতার শত্রুরা। তাই ’৭৫ এ এই বাড়িতেই হামলা করে তারা। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। শিশু রাসেলও রক্ষা পায়নি ঘাতকদের হাত থেকে। তারা জানতো বঙ্গবন্ধুর পরিবারের একজন সদস্য বেঁচে থাকলে তাদের চক্রান্ত ভেস্তে যাবে। গেছেও। অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

এই বাড়িতে ঢুকলেই চোখে পড়বে একটি অভ্যর্থনা কক্ষ। এর পাশের কক্ষটি ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের পড়ার ঘর। এখান থেকেই ৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। নিচতলায় রয়েছে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের রান্নাঘর। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠলে প্রথমেই চোখে পড়বে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কক্ষ। এর পাশে রয়েছে একটি বসার ঘর। এখানেই পরিবার নিয়ে বসে একসঙ্গে টেলিভিশন দেখতেন বঙ্গবন্ধু। পাশের ডাইনিং টেবিলে বেগম মুজিবের হাতে তৈরি করা আচার আজও সংরক্ষিত আছে।

বসার ঘরের পাশেই বঙ্গবন্ধুর শোবার ঘর। এ ঘরের চারপাশে রয়েছে অসংখ্য গুলির চিহ্ন। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট ভোরে এ ঘরেই বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর মেজো ছেলে শেখ জামাল, ছোট ছেলে শেখ রাসেল এবং শেখ কামাল ও শেখ জামালের দুই নববধু সুলতানা কামাল ও রোজী জামালের মরদেহ পড়ে ছিল।

একটু সামনে এগুলেই বাড়ির মূল সিঁড়ি; জাতির পিতাকে হত্যাকাণ্ডের স্থান। গুলির চিহ্নগুলো আজও ধারণ করে আছে সিঁড়ির প্রতিটি স্তর।

সিঁড়ির পাশেই বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার কক্ষ। এ কক্ষে সংরক্ষিত আছে বঙ্গবন্ধুর কোরআন শরীফ, টুপি, তসবিহ, চশমা, মুজিব কোট, ব্রাশ ও বহুল ব্যবহৃত পাইপ। কারাগারে থাকা অবস্থায় এই কোরআন শরীফটি পড়তেন বঙ্গবন্ধু।

জেল থেকে বেগম মুজিবকে যে চিঠিগুলো বঙ্গবন্ধু লিখতেন সেগুলো কেটে কেটে স্ত্রী বেগম মুজিবের কাছে পাঠাত কারা কর্তৃপক্ষ। সেগুলোও এখানে সংরক্ষিত আছে। এ কক্ষেই ১৫ আগস্ট রাতে ঘাতকদের বুলেটে বিদীর্ণ বঙ্গবন্ধুর পাজামা, শেখ রাসেলের শার্ট সংরক্ষিত।

এ কক্ষের পাশেই শেখ জামালের কক্ষ। শেখ জামালের কক্ষেও বুলেটের চিহ্ন স্পষ্ট। দোতলায় রয়েছে বড় একটি ব্যালকনি। এখানে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তেন।

তৃতীয় তলার আরেকটি কক্ষে থাকতেন শেখ কামাল। এর সাথেই বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত আলোচনার ঘর। এ ঘরে বসে দেশি-বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে দেখা করতেন বঙ্গবন্ধু।

৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারের হত্যার পর থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত এ বাড়িটি সিলগালা করে রাখা হয়। পরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে ঐতিহাসিক এ বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন। জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয় ১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট।

জাদুঘরের পেছনের অংশে রয়েছে সম্প্রসারিত নতুন ভবন। ২০১১ সালের ২০ আগস্ট এ অংশটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হয়। ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন সময়ের আলোকচিত্র রয়েছে আর পঞ্চম তলায় পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্র।

সুত্রঃ headntails