দিনাজপুরে বাণিজ্যিকভাবে ‘ড্রাগন’ ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে

৮:৪৮ পূর্বাহ্ন | শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০ রংপুর
dra

শাহ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকেঃ ধানের জেলা দিনাজপুরে বাণিজ্যিকভিত্তিতে জনপ্রিয় সুস্বাদু-পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ বিদেশি ফল ‘ড্রাগন’ চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ফল চাষ করে ঘুরছে অনেকের ভাগ্যে পরিবর্তনের চাকা। দিনাজপুরে মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগি বলেও জানাচ্ছেন কৃষিবিদরা। সহযোগিতা পেলে এ অঞ্চলে ড্রাগন চাষের বিপ্লব সাধিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই।

আর এখন আর স্বপ্ন নয়; বাস্তবে দিনাজপুরে বিস্তৃর্ণ ক্ষেতজুড়ে শোভা পাচ্ছে জনপ্রিয় সুস্বাদু-পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ বিদেশি ফল ‘ড্রাগন’। সারিবদ্ধভাবে আরসিসি পিলারে বাইকের পুরোনো টায়ারে জড়িয়ে থাকা গাছে ঝুলছে ড্রাগন ফল। এ ফল চাষ করে অনেকে আশাতীত ফলনও পাচ্ছেন। ফল বিক্রি হচ্ছে ক্ষেত থেকেই। পাইকারেরা ক্ষেত থেকেই নগদ টাকায় ফল ক্রয় নিচ্ছে যাচ্ছেন। এতে লাভবান কৃষক।

সদর উপজেলার শেখপুরা এলাকার ড্রাগন চাষী মোখলেসুর জানালেন, শখের বসে তিনি ১২ শতক জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান করে লাভের মুখ দেখছেন।

একই কথা জানালেন, বিরামপুর উপজেলার ড্রাগন ফল চাষী নজরুল ইসলাম। গত বছর প্রথম ফল পেলেঠিলেন। এবার তার ফল অনেক বেশি। ক্ষেত থেকেই সাড়ে ৩’শ থেকে ৪’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে,তার ড্রাগন ফল।

দিনাজপুরের ড্রাগন ফল জেলার চাগিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। দৃষ্টি নন্দিত এ গাছ ও ফল দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়া্েচ্ছ। ড্রাগন ফল চাষে সফলতার কাহিনী শুনে অনেকে ছুঁটে আসছে। আগ্রহ প্রকাশ করছেন এ ফল চাষের।

একটি ড্রাগন ফল বাগানে দেখা কাহারোল উপজেলার দশমাইল এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী আব্দুল করীম বাবুলের। তিনি জানালেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ড্রাগন ফল বাগান গড়ার। তিনি প্রাথমিকভাবে ২ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান করবেন। তাই ড্রাগন ফল বাগান দেখতে এসেছেন তিনি।

চলতি বছর দিনাজপুরে ৫৪ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছে। প্রতি কেজি ড্রাগন ফল স্থানীয় বাজারে সাড়ে ৩’শ টাকা থেকে সাড়ে ৪’৫শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ফল চাষে কৃষককে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে হর্টি কালচার সেন্টার ও কৃষি বিভাগ।

বছরের প্রায় সব মৌসুমেই ড্রাগন গাছে ফলন হওয়ায় বিশেষত বেকার কৃষকরা ঝুঁকছেন ড্রাগন ফল চাষে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও অনাবাদি-পরিত্যক্ত জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করছেন। দিনাজপুর সেতাবগঞ্জ চিনিকলের আওতায় কাহারোল কান্তা ফার্মে পতিত ও পরিত্যক্ত জমিতে এখন ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। এবার এ মৌসুমে তাদের জমিতে উৎপাদিত ড্রাগন ফল এক বছরের জন্য সাড়ে ১৬ লাখ টাকা চুক্তিতে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফার্মের সিআইসি কাজল চন্দ্র দাস।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইকবাল জানালেন, দিনাজপুরে মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগি বলের কৃষিবিদরা জানাচ্ছেন। সুষ্ঠু বাজারজাতের ব্যবস্থা করা গেলে উদ্যোগী কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে বলে মনে করছেন তারা।

সরজমিনে দেখা গেছে, ধানের জেলা দিনাজপুরে ড্রাগন ফল চাষের ধুম পড়েছে। এই ড্রাগন ফল চাষ করে ঘুরছে অনেক কৃষকের ভাগ্যের চাকা। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত খাকলে এবং এই ড্রাগন ফলের ভালো দাম পেলে এ অঞ্চলে আগামীতে ড্রাগন চাষেন পরিধি আরো বেড়ে যাবে এমনটাই মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।