• আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভরা মৌসুমেও দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশের আকাল, দাম আকাশচুম্বী

১২:৩০ অপরাহ্ণ | শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০ ফিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল- ইলিশের প্রধান মৌসুম শেষ হতে আর মাত্র একমাস বাকি। এই সময়ে নদী আর সাগরের ইলিশে সয়লাব হওয়ার কথা বরিশালসহ দক্ষিণের বিভিন্ন ইলিশ আড়ত। দামও সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভরা মৌসুমে ইলিশের আকাল চলছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন ইলিশ মোকামে। সরবরাহ কম থাকায় দামও আকাশচুম্বী। কেজি আকারের প্রতি কেজি ইলিশ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকায়। শুধু সাধারণের নয়, মধ্য ও উচ্চবিত্তদের কাছেও বর্তমান ইলিশের দাম অসহনীয়।

আড়তদাররা বলছেন, সাগরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া না থাকায় অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ইলিশ আসছে না। এ কারণে অভ্যন্তরীণ নদীতে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। সামুদ্রিক কিছু ইলিশ মোকামে আসলেও চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমছে না। তবে ভাদ্র মাসে নদী ও সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে আশা মৎস্য কমকর্তাদের।

গত ৩০ জুনের পর অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে মাছ শিকারে মৎস্য বিভাগের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। সমুদ্রে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত ২৩ জুলাই। এই সময়ে অভ্যন্তরীণ নদ-নদী এবং সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার কথা। নদী আর সাগরের ইলিশে সয়লাব হওয়ার কথা ইলিশের মোকামগুলো। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণের প্রধান ইলিশ মোকাম বরিশালের পোর্ট রোড আড়তে চলছে ইলিশের আকাল। গত বৃহস্পতিবার বরিশাল মোকামে সর্বসাকুল্যে ইলিশ এসেছে ২ থেকে আড়াই শ’ মণ। আজ শুক্রবারও এসেছে প্রায় একই পরিমাণ ইলিশ। এ কারণে দাম তুলনামূলক বেশি।

শুক্রবার সকালে পোর্ট রোড মোকামে ইলিশ কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতারা বলেন, ভরা মৌসুমে ইলিশের দাম আরও সহনীয় আশা করেছিলেন তারা। এই সময়ে কেজি আকারের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হওয়ার কথা ৬ থেকে ৭শ’ টাকায়। অথচ বরিশাল আড়তে এখন কেজি আকারের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৯শ’ থেকে হাজার টাকায়। দাম বেশি হওয়ায় ইলিশ এখন সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে বলে ক্রেতারা জানান।

বরিশাল মোকামে ৪শ’ থেকে ৬শ’ গ্রাম আকারের প্রতি মন ইলিশ ২৬ হাজার টাকা, ৬শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম (এলসি সাইজ) আকারের প্রতি মন ৩২ হাজার, কেজি আকারের ইলিশ ৩৮ হাজার এবং ১ কেজি ২শ’ থেকে দেড় কেজি আকারের প্রতিমণ ইলিশ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৪১ থেকে ৪২ হাজার টাকায়।

পোর্ট রোডের ইলিশ আড়তদার মো. জহির সিকদার জানান, গত কয়েকদিন ধরে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। সমুদ্রে কিছু ইলিশ পাওয়া গেলে চাহিদার তুলনায় একেবারে নগন্য। সামুদ্রিক ইলিশ খেতে ততটা সুস্বাধু নয়। এ কারণে ক্রেতারা তাদের পছন্দের ইলিশ কিনতে পারছেন না।

জহির সিকদার বলেন, সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া না থাকায় সাগরের ইলিশ নদীতে আসছে না। তাই অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আগামী দিনগুলোতে নদী ও সাগরে ইলিশ আহরন বাড়বে আশা তাদের।

জেলা মৎস্য আড়তদার এসোসিয়েশনের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই সময়ে মোকামগুলো ইলিশে সয়লাব থাকার কথা। কিন্তু নদীর ইলিশ একেবারেই নেই। সমুদ্রের কিছু ইলিশ আসলেও চাহিদা বেশি থাকায় দাম তুলানামূলক বেশি।

জেলা মৎস্য আড়দার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল বলেন, ভরা মৌসুমে নদী-সাগরে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ আহরণ না হওয়ায় আড়তদাররা হতাশ। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ নদ-নদী দিয়ে উত্তরের বন্যার পানি নামছে সাগরে। এ কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে নদ-নদীতে পানি বেশি। পানি বেশি থাকায় নদ-নদীতে সাগরের ইলিশ আসছে না। নদীর পানি কমলে সাগরের ইলিশ ডিম ছাড়তে নদীতে আসবে তখন অভ্যন্তরীণ নদীতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে বলে আশা তাদের।

বরিশাল মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, এই সময়ে সাগরে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে আবহাওয়াজনিত কারণে নদীতে এখন ইলিশ কম আসছে। প্রত্যেক বছরে এই সময়ে ইলিশের সংকট হয়। ডিম ছাড়ার সময় হলে (ভাদ্র মাস) সাগরের ইলিশ ঝাঁকে ঝাঁকে অভ্যন্তরীণ নদীতে আসবে। তখন নদ-নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। সরবরাহ বাড়লে ইলিশের দামও সহনীয় হবে।