সংবাদ শিরোনাম
সীমান্ত থেকে ফেরত গেল ১২ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ | মানুষের আস্থা পেয়েছি বলেই দেশ স্থিতিশীল আছে: প্রধানমন্ত্রী | দেশে কমেছে করোনা শনাক্ত, মৃত বেড়ে ৫০৯৩ | এই দিনই দিন না, আরও দিন আছে: রিজভী | ‘৭৫ এর মত দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র এখনও চলছে’- প্রধানমন্ত্রী | করোনাপরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সার্কের দেশগুলোকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর | দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত-মৃত্যুর সর্বশেষ তথ্য | কিশোরগঞ্জে জনসচেতনতায় মাদকবিরোধী পদযাত্রা অনুষ্ঠিত | টাঙ্গাইলে দূর্গা পূজায় তিন দিনের ছুটিসহ সংখ্যালঘু আইন বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন | ‘ইয়েমেনে পরাজিত সৌদি রাজা সালমান প্রলাপ বকছেন’- ইরান |
  • আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশে প্রতিটি জেলায় প্লাজমা সেন্টার হওয়া দরকার’- জাফরুল্লাহ

১০:১৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০ ঢাকা
gono

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকাঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্লাজমা সেন্টার চালু হয়েছে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে। এ প্লাজমা সেন্টারে প্রতিদিন ২৫ জন করোনামুক্ত রোগীর রক্ত থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে। রাজধানীর ধানমণ্ডিতে শনিবার হাসপাতালের এই প্লাজমা সেন্টারের উদ্বোধন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক এম এ খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস বিভিন্ন রকম উপসর্গ সৃষ্টি করে। রোগ ভালো হলেও কাউকে খুব দুর্বল করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে প্লাজমা প্রদানের বিষয়টি আরও অনেক প্রচার হওয়া দরকার। সারা বাংলাদেশে প্রতিটি জেলায় প্লাজমা সেন্টার হওয়া দরকার।”

গণস্বাস্থ্যের প্লাজমা সেন্টারে প্রতিদিন ২৫ জন করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত রোগীর রক্ত থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি। যারা প্লাজমা নেবেন, তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা খরচ হবে। গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্লাজমা সেন্টার ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

এ সময় হেমাটো অনকোলজিস্ট অধ্যাপক এম এ খান বলেন, প্লাজমা দুই পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয়। ওটাকে প্লাজমাফেরিসস, যা করা হয় একটা মেশিনের সাহায্যে। সেটা ব্যয়বহুল ৩০ থেকে ৪০ লাখ একটা মেশিনের দাম। নমুনা সংগ্রহ করতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগে। আরেকটা পদ্ধতি হলো, করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা রোগীর রক্তের নমুনা থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা। এখানে সমস্যা হলো, একজন থেকে যে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে, তা শুধু একজনকে একবার দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘প্লাজমা থেরাপি কোন সময়ে কাকে দিতে হবে, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকে প্ল্যান করি, বয়স্ক রোগী যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের যদি আমরা কোভিড আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থেরাপি দিতে পারি, এটা হলো উত্তম। কারণ সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন আসার আগ পর্যন্ত এটা খুব কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি। কারণ আমরা জানি, অ্যান্টিভাইরাস যেগুলো ব্যবহার হচ্ছে এবং ইনজেকশন ফর্মে যেসব ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে, এগুলো সংগ্রহ করতে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়।’

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আরো জানান, ‘বড় চ্যালেঞ্জ হলো ডোনারদের কারও কারও নমুনা অ্যান্টিবডি কম থাকে। যাঁরা অধিক মাত্রায় আক্রান্ত হন, যাঁদের মধ্যে লক্ষণ উপসর্গ বেশি থাকে, তাঁদের মধ্যে অ্যান্টিবডি বেশি থাকে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, অ্যান্টিবডি পরিমাপ করা। কিছু কিছু জায়গায় অ্যান্টিবডি টেস্ট হচ্ছে। প্লাজমার মূল শক্তি হচ্ছে অ্যান্টিবডি। কারণ এটা ভাইরাসের গায়ে লেগে, ভাইরাসকে অকেজো করে দেয়, তখন ভাইরাস আর সেলের মধ্যে ঢুকতে পারে না। অ্যান্টিবডি টেস্ট দ্রুত করা দরকার। প্লাজমা দিতে হবে প্রথম দিকে। প্রথম দিকে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ বেশি থাকে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের আইসিউ প্রধান নাজির মোহাম্মদ, প্যাথলজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোলাম মো. কোরেইশী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্যের করোনা শনাক্তের কিট উদ্ভাবক অনুবিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল, অধ্যাপক ডা. শওকত আরমান, গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজের মাইক্রো ভাইলজির প্রধান অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. বদরুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।