• আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মুজিব উদ্যানে সমাবেশ করতে না দেয়ার অভিযোগ জয়নাল হাজারীর

⏱ ৫:২৪ পূর্বাহ্ন | রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২০ 📂 ঢাকা
Feni

আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জয়নাল হাজারীর ফেনীর মুজিব উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ ও দলীয় ক্যাডাররা।

শনিবার সন্ধ্যায় জয়নাল হাজারী বাড়ির মুজিব উদ্যানে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেছেন।

তার অভিযোগ, মুখোশাধারী সন্ত্রাসীদের মুজিব উদ্যানে দফায় দফায় ফাঁকা গুলি, বোমা হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার পর শুক্রবার রাত থেকে জয়নাল হাজারীর মুজিব উদ্যানে সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে কড়া পাহারা বসিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়।

ফেনী মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের বিভিন্ন গ্রুপে মুজিব উদ্যানের চত্বুর মুখি রাস্তা ঘিরে রাখা হয়।

জয়নাল হাজারী বলেন, শনিবার বিকাল ৪টায় মুজিব উদ্যানে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুক্তিযোদ্ধারা আসার পথে মাষ্টার পাড়া কানন সিনেমা হলের সামনে মুখোশাধারী সন্ত্রাসীরা তাদেরকে লাঞ্চিত করে।

এ সময় ফেনী মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদেরকে লাঞ্চিত করার হাত থেকে রক্ষা করতে তারা এগিয়ে আসেনি। মুখোশধারী ক্যাডাররা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে লাঞ্চিত করে তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ৫টার দিকে ৩০/৪০জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে নাসরিন, জেরিনসহ বিভিন্ন নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। মুখোশাধারী সন্ত্রাসীরা তার বাড়ি থেকে কোনো প্রকার খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। পুলিশকে সংবাদ পাঠালে সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছে।

জয়নাল হাজারী বলেন, ফেনী থানার ওসি আলমগীর হাসান আমাকে ফেনী ছেড়ে যেতে চাপ দিচ্ছেন। আমি ফেনী ত্যাগ না করলে পুলিশ তার নিরাপত্তা দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে।

জয়নাল হাজারী বলেন, আমার বাড়িতে কোনো সন্ত্রাসীর গুলিতে আমার বাড়িতে মুত্যু হলে আমার আপনজনরা পারিবারিক গোরস্থানে আমাকে দাফন করতে তাদের জন্য সহজ হবে। আমি মৃত্যুকে ভয় পাইনা। মুত্যু মানুষের একবার হয়।

তিনি বলেন, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা ও পুলিশ বলছেন আমি ফেনী আসার বিষয়ে দলীয় অনুমতি নেয়নি।

তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ও পুলিশের আইজিপির লিখিত অনুমুতি নিয়ে ফেনী মুজিব উদ্যানে মুজিববর্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে আমার বাড়ি আসি।

হাজারীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে ৩ টায় ও শুক্রবার বিকালে মুখোশ পরে কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার বাড়িতে প্রবেশ করে দফায় দফায় হামলা করেছে।তারা বাড়িতে অবস্থিত মুজিব উদ্যানে ১৫ আগস্ট জাতির পিতার মৃত্যুবার্ষিকী ও শোক দিবস পালনের জন্য আয়োজনের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে এবং ফাঁকাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

জয়নাল হাজারী বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতার মৃত্যুবার্ষিকী ও শোক দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে দফায় দফায় হামলার চেষ্টা চালানো হয়।

আমি বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেছি। আজকের হামলার বিষয়টি ফেনীর পুলিশ সুপারকেও জানিয়েছি। ইতিমধ্যে আমার বাড়িতে পরিদর্শন করে গেছেন ফেনী সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. আলমগীরসহ ডিবি পুলিশের ওসি ও র‌্যাব সদস্যরা।

বুধবার জয়নাল হাজারী তার নিজের ফেসবুক পেজে তার দুই সহযোগী আরজু ও শাখাওয়াতসহ তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, যে দেশে জাতির পিতা নিহত হয়েছেন সে দেশে আমার মৃত্যু হলেও আফসোস থাকবে না। মুজিব উদ্যান করেছি, বহু বছর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান করতে পারিনি। এবার ১৫ আগস্ট ফেনীতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্বে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করব। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে। বিরোধী পক্ষের উস্কানিমূলক তৎপরতার শেষ নেই, ওরা অপতৎপরতায় লিপ্ত।

আইনি পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জয়নাল হাজারী বলেন, আমি লিখিতভাবে একটা অভিযোগ ফেনী সদর থানায় পাঠানোর কাজ শেষ করেছি রাতের মধ্যে লিখিত আভিযোগ দায়ের করা হবে।