সংবাদ শিরোনাম
সিলেট এবং খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের প্রতিবাদে গাজীপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ | শিল্পপতি হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে ভূমিমন্ত্রীর শোক | বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড দলকে অভিনন্দন জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী | ‘শেখ হাসিনার জন্যই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে’- মেয়র তাপস | ‘নভেম্বরে আসতে পারে করোনার ভ্যাকসিন’- স্বাস্থ্যমন্ত্রী | শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির বাতিঘর ও কাণ্ডারি: শিক্ষামন্ত্রী | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ও এইচএসসি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষামন্ত্রী | দেশে ইতিহাস বিকৃতির জনক জিয়াউর রহমান: কাদের | শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার অফুরন্ত প্রেরণা: কাদের | শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বাকৃবি ছাত্রলীগের দোয়া মাহফিল |
  • আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে সমস্যার সমাধান চান নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

৩:৫১ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন
nstu

এস আহমেদ ফাহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষাকার্যক্রম থেকে পিছিয়ে না পড়ে সেলক্ষ্যে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো বিভাগ পুরোদমে ক্লাস শুরু করেনি। কোন কোন বিভাগে মাত্র ১-২ টি কোর্সের ক্লাস চলমান। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ এবং নানাবিধ সমস্যার কারণেই সেসকল বিভাগের শিক্ষকরা ভালোমত ক্লাস শুরু করতে পারেন নি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিয়ে এসকল বিভাগের শিক্ষকরা পুরোদমে ক্লাস নেয়া শুরু করলেও প্রশাসনের বেঁধে দেয়া এত কম সময়ে কোর্সগুলো সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সম্ভব নয়। আবার কিছু কিছু বিভাগে পুরোদমে ক্লাশ শুরু হলেও উপস্থিতি ৫০-৫৫ শতাংশ। দেখা যায় যে, বাকি শিক্ষার্থীদের এমন অনেকেই আছেন যারা এখন পর্যন্ত একটি ক্লাসেও উপস্থিত হয়নি।

সেক্ষেত্রে ক্যাম্পাস খোলার পরপরই কিংবা ১ মাস পরে পরীক্ষা নেয়া হলে ক্লাস না করা শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকেই পরীক্ষার জন্য তৈরী করতে ব্যর্থ হবে এবং পরীক্ষায় বসলেও আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধুমাত্র সেমিস্টার ফাইনাল ব্যতীত বাকি সকল কার্যক্রম অনলাইনে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে ক্লাস টেস্ট, এসাইনমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন যদি অনলাইনে নেয়া হয় তাহলে ক্লাস না করা শিক্ষার্থীরা অনেকাংশে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই বিষয়ে সম্প্রতি (৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে,১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে চলমান সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা ব্যতীত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী সেমিস্টারের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে দুই সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা একসাথে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উক্ত সভায়। সভার একাধিক সূত্র এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

সভা সূত্র জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে করোনা পরিস্থিতি এবং সরকারি সিদ্ধান্তের উপর। তারা বলেন, সহসায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলে প্রশাসন এই বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবে। এক্ষেত্রে পূর্বের সেমিস্টার পূর্ণাঙ্গ শেষ করে পরবর্তী সেমিস্টারে যাওয়া হবে। আর খোলা না হলে ২য় সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা ব্যতীত বাকি কার্যক্রম অনলাইনে চালিয়ে নেওয়া হবে।

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (নোবিপ্রবিসাস) তাদের নিজস্ব ফেসবুক পেইজ থেকে পোল গঠন করে অনলাইনে ভোট নেয় এবং এই ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদের মতামত নিয়েছে। এতে অংশগ্রহণ কারী ১৫শ শিক্ষার্থীদের ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী “না ” ভোট দিয়েছে এবং বাকি ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী “হ্যা” ভোট দিয়েছে।

সেপ্টেম্বরে ক্যাম্পাস খুললে চলমান সেমিস্টারের পরীক্ষা এবং বিলম্ব হলে পরবর্তীতে দুটি সেমিস্টারের পরীক্ষা একসাথে নেয়া হবে- প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে কোনভাবেই একমত পোষন করছেন না বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই। সেপ্টেম্বরে ক্যাম্পাস খুললেও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় চাইছেন তারা। করোনাকালীন সময়ে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। নিজেদেরকে মানসিকভাবে তৈরী করার জন্যও সময় প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের। সকল শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে জোর অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা ডিভাইস সমস্যা, নেটওয়ার্ক সমস্যা, ঘন ঘন লোডশেডিং, এবং মোবাইল কোম্পানিগুলোর নেট দুর্বলতার কারণে সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত অনলাইন ক্লাশে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনলাইন পদ্ধতিতে শ্রেনিকার্যক্রম আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি করছে।সকল শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে জোর অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

নেটওয়ার্ক সমস্যাজনিত কারণে ক্লাস না করতে পারা বেশ কিছু শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা যারা ক্লাস করতে পারছিনা তাদেরকে যদি ক্লাসের ভিডিও, ক্লাস লেকচারের সফটকপি দেয়া হয় তাহলে সুবিধাজনক সময়ে সেগুলো দেখে আমরা পড়াশোনার মধ্যে থাকতে পারবো এবং কিছুটা হলেও উপকৃত হবো।”

নিয়মিত অনলাইন ক্লাশে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাসের নিজ ডিপার্টমেন্টের ক্লাসরুমে বসে ক্লাশ করা আর অনলাইনে ক্লাস করার মধ্য রয়েছে বিরাট প্রভেদ। অনলাইনে সব বিষয়গুলো যথার্থভাবে বুঝা সম্ভব হয়না। এই পদ্ধতির ক্লাসে শিক্ষকের সাথে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগও খুব কম পাওয়া যায়। আবার ব্যবহারিক ক্লাসগুলো তো অনলাইনে করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে ক্যাম্পাস খুললে প্রয়োজন যথেষ্ট সময় এবং অন্যান বিষয়ের জন্যও প্রয়োজন রিভিউ ক্লাস।

এছাড়াও উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাসায় বসে শতভাগ মনযোগ দিয়ে পড়াশুনা করাটাও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা। শুধুমাত্র সেশনজট থেকে মুক্তি পেতে এমন সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন শিক্ষার গুণগত মানকে ব্যাহত করে অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা কাজ করতে পারে এবং সিজিপিএ খারাপ হওয়ার আশংকাও থাকবে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, দীর্ঘসময় শিক্ষা কার্যক্রমের বাহিরে থেকেছে শিক্ষার্থীরা, এতে তারা পিছিয়ে পড়বে। ধীরে ধীরে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদেরকে নিয়েও বিভাগীয় শিক্ষকদের ভাবতে হবে। বিভাগসমূহ উদ্যোগ নিয়েই শিক্ষার্থীদের ডাটা সমস্যার সমাধান করে ক্লাসে নিতে পারেন। আর দূর্বল নেটের শিক্ষার্থীদের জন্য সহনশীল হতে হবে শিক্ষকদেরকে।

এক্ষেত্রে তাদের উচিৎ, একদিন আগে লেকচারের সফটকপি দিয়ে দেওয়া এবং ক্লাস রেকর্ড দিয়ে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সুবিধামত সময়ে পাঠ গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া।বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউজিসিতে নির্ভুল তালিকা পাঠিয়ে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ডিভাইস সুবিধা পেতে সহায়তা করা হবে, যেন তারাও এই পদ্ধতির ক্লাস থেকে বঞ্চিত না হয়। সর্বোপরি ক্লাস টেস্ট ও এসাইনমেন্ট নেওয়া সহ সর্বক্ষেত্রে শিক্ষকদেরকে সহনীয় পর্যায়ে থেকে পাঠদান করতে বলেন তিনি।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো দিদার-উল-আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্যই অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এটি যেন আবার তাদের অসুবিধার সৃষ্টি না করে। সেজন্য তিনি শিক্ষকদের নির্দেশ দেন, ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করেই যেন কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হয়। সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীরা যেন কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে শিক্ষকদের অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন উপাচার্য।