• আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পাকা বাড়িতে উঠলেন সেই ‘দানবীর ভিক্ষুক’

৪:০০ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
vikkhuk

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ করোনায় কর্মহীন এবং অসহায় হয়ে পড়া মানুষের সহায়তায় নিজের ঘর মেরামতের জন্য জমানো ১০ হাজার টাকা দান করা সেই ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা বাড়িতে উঠলেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার সময় ওই নব-নির্মিত বসতঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে ঘরের চাবি নজিম উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব।

ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী গারো পাহাড় সংলগ্ন গান্ধীগাঁও গ্রামে একখণ্ড জমির ওপর নির্মিত সেই ঘরের পুরোটা ইট দিয়ে গেঁথে তোলা হয়েছে। টিনশেড আধাপাকা ওই ঘরে রয়েছে দুইটি কক্ষ। ঘরের ওপরে রঙিন টিনের ছাউনি। দুই পাশে লোহার গ্রিল দিয়ে বারান্দা করা হয়েছে। রয়েছে রান্নাঘর, তার পাশে গোসলখানা ও শৌচাগার। আর এটিই নিজের শেষ সম্বলটুকু দান করে দেয়া নাজিম উদ্দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার।

এছাড়া জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব নাজিম উদ্দিনকে গান্ধীগাঁও বাজারে একটি দোকানঘর করে দিয়ে ব্যবসা করার জন্য নগদ ২০ হাজার টাকাও দিয়েছেন। ওই বসতঘর দেখতে এখন প্রায় প্রতিদিনই আশপাশের এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ভিড় করছেন।

উল্লেখ্য, গেল ২১ এপ্রিল করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে নিজের ভাঙা ঘর মেরামতের জন্য ভিক্ষা করে জমানো নগদ দশ হাজার টাকা অনুদান দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন শেরপুরে ঝিনাইগাতীর ৮০ বছর বয়সী ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন।

তার এই দান করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসলে ইউএনওকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব-(১) সালাহ উদ্দিন। নির্দেশনা অনুযায়ী রাতেই ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে যান ইউএনও।

পরে ২২ এপ্রিল দুপুরে ডিসির সম্মেলনকক্ষে নাজিম উদ্দিনকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এদিন তার হাতে ২০ হাজার টাকা ও প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী তুলে দেন ডিসি।

এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাজিম উদ্দিনকে খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল ও আলুসহ অন্যান্য সামগ্রী।

সূত্র জানায়, এই দৃষ্টান্তমূলক ও হৃদয়গ্রাহী ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর নজর কেড়েছিল এবং তাকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে একটি আধুনিক বাড়ি তৈরি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেই ওই বৃদ্ধ দরিদ্র ব্যক্তির জন্য বাড়ির নকশা চূড়ান্ত করেন।

ডিসির কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নাজিম উদ্দিন পেলেন জমি এবং পাকা বাড়ি। এছাড়া জীবিকা নির্বাহের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হবে একটি মুদি দোকান। নাজিম উদ্দিন যে ঘরটিতে এতদিন ছিলেন সেটি মূলত সরকারের খাস জমি ছিল। এ তথ্যটি ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনও এতদিন জানতেন না।

সরকারের এই খাস জমিটি ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যদিও সরকার অন্য একটি উপযুক্ত জায়গায় নতুন বাড়ি তৈরি করতে চেয়েছিল, নাজিম উদ্দিন এখন যে জায়গাটিতে বাস করছেন, সেখান থেকে যেতে চাননি তিনি। তাই, নতুন বাড়িটি তার বর্তমান জায়গায় নির্মিত হয়েছে।

নাজিম উদ্দিন যে ঘরে থাকতেন সেই জমি কিছুটা সম্প্রসারণ করে ১৫ শতাংশ জমি তার নামে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন ডিসি আনার কলি মাহবুব।