সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাণীনগরে বাড়ির উঠানে বীজতলা!

⏱ ৪:২২ অপরাহ্ন | রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২০ 📂 রাজশাহী
bari

আবু ইউসুফ রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে মধ্য জুলাইয়ে লাগাতার বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলের পানিতে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদ সীমা ছুঁই ছুঁই করায় উপজেলার নান্দাইবাড়ি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে।

এর সাথে পাল্লা দিয়ে যোগ হয় রক্তদহের বিলের পানি, কুজাইল স্লুইচ গেটের পানি, আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর ও কাশিয়া বাড়ি স্লুইচগেটের পানি রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঢুকে চাষ যোগ্য রোপ-আমন ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যায়। সাথে সাথে প্রায় ১হাজার হেক্টর জমি বীজতলার বড় অংশে ক্ষতি হয়।

স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে বন্যা পরবর্তী রোপা-আমন ধান চাষের লক্ষ্যে চাষীরা যাতে আপদকালীন চারা সংকটে না পড়ে সেই লক্ষে বীজতলা তৈরির জন্য উচুঁ জমি, বাড়ির উঠান, আশে পাশের বাগানবাড়িতে বীজ তলা তৈরির পরামর্শসহ প্রত্যক্ষ ভাবে সহযোগীতা করেন। সব মিলে নতুন করে প্রায় চাষীদের বাড়ির আশেপাশে এবং যেখানে বন্যার পানি ঢুকতে পারেনি এমন স্থানে আরো প্রায় ২শ’ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

বন্যার পানি ধীর গতিতে নামার কারণে রোপা-আমন ধান লাগানোর জন্য চাষীরা সকল প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নে পুরোদমে আমন ধান লাগানো শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি রোপা-আমন মৌসুমে উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্যে তৈরি করা হয় ৯৫০হেক্টর রোপা-আমনের বীজতলা। কিন্তু কৃষকের কাল হয়ে দাঁড়ায় অতি বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে প্রায় ৬শ’ হেক্টও বীজতলা নষ্ট হয়ে যায় যার কারণে বন্যার পর চাষীরা যাতে রোপা-আমন ধান লাগানোর জন্য চারা সংকটে না পড়ে সে জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকরা নতুন করে উচুঁ জমিতে বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেয়।

উপজেলার সিম্বা গ্রামের কৃষক সেফাদ ও নজরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে আমাদের রোপা-আমন বীজতলা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আগাম প্রস্তুতির জন্য আপদ কালীন বীজতলা বাড়ির উঠানে ও আশেপাশে তৈরি করেছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের বীজতলা। তবে বন্যার পানি যদি আগস্ট মাসের প্রথম দিকে নেমে যায় তাহলে কৃষকরা ব্রি ধান-৩৪সহ নাবি জাতের আমন ধান রোপন করতে পারবেন। কারণ এই জাতের ধান একটু দেরিতে রোপন করলেও ফলনের কোন সমস্যা হবে না। আর এই লক্ষ্যে সামনে রেখে চাষীদেরকে উচুঁ জায়গায় বীজতলা তৈরির পরামর্শ দিচ্ছি।