• আজ ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করে আমিরাত ‘বড় ভুল’ করেছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

৬:১১ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২০ আন্তর্জাতিক
iran

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশাল ভুল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। শনিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি একথা বলেন।

গত বৃহস্পতিবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় একটি কথিত ঐতিহাসিক চুক্তিতে উপনীত হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল। ফিলিস্তিন তাৎক্ষণিকভাবে একে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যা দেয়। এদিকে চুক্তির পর আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের হুমকি দিয়ে রেখেছে তুরস্ক।

বিক্ষোভ হয়েছে ইরানেরও। তেহরানে সংযুক্ত আমিরাতের দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান কয়েকশ’ বিক্ষোভকারী। ইসরাইলের সঙ্গে আরব আমিরাতের সম্পর্ক স্বাভাবিকের ঘোষণা ভালো চোখে দেখছে না তেহরান। এক সংবাদ সম্মেলনে আমিরাত সরকারকে সতর্ক কোরে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, এই চুক্তির জন্য চরম মাশুল দিতে হবে আবুধাবিকে।

আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরানবিরোধী সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া এই চুক্তির সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ইসরায়েলকে ‘এ অঞ্চলে পা রাখার সুযোগ’ করে দেওয়ার ব্যপারে আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্কও করেছেন।

রুহানি বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাদের (আমিরাত) আরও বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। তারা বিরাট একটা ভুল করেছে, তারা একটা বিশ্বাসঘাতকতার কাজ করেছে। আমরা আশা করবো তারা এটা বুঝতে পারবে এবং এই ভুল পথ বর্জন নিজেদেরকে সরিয়ে নেবে।’

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে রুহানি বলেন, ‘এখন কেন এটা ঘটল? কেন ট্রাম্পের নির্বাচনের আগে আগে ওয়াশিংটন থেকে এর ঘোষণা আসলো। ট্রাম্পকে জেতাতে এই চুক্তি করার মাধ্যমে আমিরাত নিজের দেশ, দেশের জনগণ, মুসলমান এবং আরব বিশ্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে’।

ফিলিস্তিন এ চুক্তিকে তাদের পিঠে ছুরি মারা হিসেবে অভিহিত করে মুসলিম দেশগুলোর জোট আরব লীগ ও অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনকে (ওআইসি) চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিতেও আহ্বান জানিয়েছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিতি সৌদি আরব এখনও কিছু বলেনি।

ইরান ক্ষুব্ধ হলেও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে মিশর, জর্ডান ও বাহরাইনসহ অন্যান্য দেশ। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষণকে ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ঐতিহাসিক মুহুর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছে।