• আজ ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হাওড়ে দৃষ্টিনন্দন আবদুল হামিদ সেতুতে হাজারো পর্যটকের ভিড়

৭:১৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২০ ঢাকা
Kishorgonj

এ. এম. উবায়েদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত অষ্টগ্রাম উপজেলায় ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সেতু। এই সেতুকে হাওরের জন্য মাইলফলক হিসেবেই দেখছেন হাওরবাসী। এই সেতু হাওরের অপরুপ সৌন্দর্যকে আরো অনেক গুণ বৃদ্ধি করেছে পর্যটকদের কাছে। এ সেতু নির্মাণ হওয়ায় অষ্টগ্রাম উপজেলার ৫ ইউনিয়নের জনসাধারণ সারা বছর এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে যাতায়াত করতে পারছে সহজেই।

অষ্টগ্রাম সদর, পূর্ব অষ্টগ্রাম, কাস্তুল, বাঙ্গালপাড়া ও দেওঘর ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ সারা বছর সড়ক পথে এই সব ইউনিয়নে যোগাযোগ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নিজ নামে তৈরি এ সেতু উদ্বোধন করেন। একটা সময় হাওরে প্রচলিত কথা ছিল ‘বর্ষায় নাও (নৌকা), শুকনায় পাও (পা)’। ওই প্রচলিত কথা বর্তমানে হাওরবাসীর জন্য অতীত হয়ে গেছে। শুকনায় তারা (হাওরবাসী) উপজেলাসহ জেলায় যানবাহন দিয়ে চলাচল করছেন। যা হাওরবাসী কোনদিন কল্পনাও করতে পারেনি। ইতিমধ্যে দুর্গম হাওর অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। যা হাওর বাসীর কাছে রীতিমতো স্বপ্নের মতো।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে ৭ বার কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বর্তমানে বাবার দেখানো পথে হেঁটে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে তাঁরই সুযোগ্য সন্তান দুই বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য রেজোয়ান আহম্মেদ তৌফিক এমপি।

ভাটির শার্দুল বাংলাদেশের দুই বারের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই সেতু নির্মিত হওয়ায় ওই উপজেলার মানুষ উচ্ছ্সিত। এখন থেকে তাদের নৌকা বা ট্রলার দিয়ে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে যোগাযোগ করতে হবে না। সড়কপথই হবে ৫ ইউনিয়নের যোগাযোগের মাধ্যম।

এই সেতুটি এবং হাওড়ের অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই হাজারো পর্যটক ভীড় করছেন  এ অঞ্চলে। বিগত এক দশক আগেও যে হাওড় অঞ্চল মানুষ দেখেছে তার সাথে বর্তমান অবস্থাটা স্বপ্ন মনে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নে আজকের এ বাস্তবতা। শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থারই যে উন্নয়ন হয়েছে তা নয় হাওড় অঞ্চলের মানুষের জীবন যাপনেও এসেছে পরিবর্তন। আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে সর্বত্র।

স্থানীয়দের ধারণা এক সময়ের অবহেলিত এ হাওড় অঞ্চল আগামীতে পর্যটনের এক বিশাল ক্ষেত্র হিসেবে স্থান করে নিবে।