‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’- শিক্ষামন্ত্রী

৯:১৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২০ জাতীয়
dipu

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। ধর্ম নিরপেক্ষতা হলো বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি। এজন্যই আজ আমরা বলতে পারি ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার উৎসব সবার।

তিনি বলেন, গণপরিষদে সংবিধান পাস করার সময় বঙ্গবন্ধু স্পষ্টভাবে বলেছিলেন ধর্ম পবিত্র, একে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ শীর্ষক এক অনলাইন সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বলতেন সমাজতন্ত্র, প্রগতি ও সাম্প্রদায়িকতা পাশাপাশি চলতে পারে না। বঙ্গবন্ধু কোন নিদৃষ্ট ভূখণ্ড বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির সমাজতন্ত্রের অন্ধ অনুকরণ করতেন না। তিনি বাঙালি সংস্কৃতি ও সভ্যতা সাথে সম্পর্কিত সব রকমের শোষণ, বৈষম্যহীন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এটাই ছিল তার অপরাধ। তাকে হত্যা করে ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে একটি ধর্মান্ধ রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, কিন্তু আদর্শের মৃত্যু হয় না। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হত্যা করা সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত। শত প্রতিকূলতার মধ্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আজ আমাদেরকে পথ দেখায়।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত ভিসি খন্দকার ইফতেখার হায়দারের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, ড. ফখরুল আলম, এ মতিন চৌধুরী প্রমূখ।

এ সময় কামাল নাসের বলেন, উপমহাদেশে যত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ছিলেন সব দাঙ্গার বিরুদ্ধে। পাকিস্তান রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিল বঙ্গবন্ধু তার প্রতিবাদ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করতেন। বঙ্গবন্ধু বলতেন আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বড় সত্য হলো আমরা বাঙালি।

“কলকাতা, বিহার ও নোয়াখালীর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়াবহতা এবং ভাষা আন্দোলন বঙ্গবন্ধুকে ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে” বলে উল্লেখ করেন ফখরুল আলম।