শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে ‘কাঁচা-পচা-বা‌সি’ খাবার!

৩:৪৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

নয়ন দাস, স্টাফ রি‌পোর্টার, শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর হাসপাতা‌লে ভ‌র্তিকৃত রোগী‌র জন্য দৈন‌ন্দিন পথ্য সামগ্রী সরবরা‌হে ঠিকাদারী প্র‌তিষ্ঠা‌নের বিরু‌দ্ধে নানা অ‌নিয়‌মের অ‌ভি‌যোগ পাওয়া গে‌ছে।

দৈ‌নিক প্র‌তি ‌রোগীর জন্য উন্নত মা‌নের নিয়ম মাফিক খাবার সরবরাহ করার কথা থাক‌লেও তা মানা হ‌চ্ছে না ১০০ শয্যা বি‌শিষ্ট এই হাসপাতাল‌টি‌তে। এরপরও গত ২৬ জুন (২০১৯-২০) অর্থ বছ‌রের ঠিকাদারের মাধ্য‌মেই (২০২০-২১) অর্থাৎ চল‌তি বছরেও খাদ্য সামগ্রীর কাজ চা‌লি‌য়ে যেতে নি‌র্দেশ দি‌য়ে‌ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। য‌দিও সরকারি দরপত্রে রোগীদের খাবার সরবরাহ’র নিয়ম নির্দেশনাও মানছেন না ঠিকাদার।

জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর হাসপাতা‌লে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান এন্ড সন্স খাদ্য সরবরাহ করছে।

হাসপাতাল সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, মেসার্স খান এন্ড সন্স একাই পথ্য সরবরাহ করছে। বিভিন্ন নামে একাধিক প্রতিষ্ঠানিক নাম ব্যবহার করে প্রায় ক‌য়েক যুগ ধ‌রে একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে পথ্য সরবরাহ কার্যক্রম। তাছাড়া শরীয়তপুর সদর হাসপাতা‌লে ঠিকাদার তিনি একাই। চল‌তি অর্থ বছ‌রে ৩০ মে দরপত্র বিজ্ঞ‌প্তি প্রকাশ করা হ‌লেও নতুন করে টেন্ডার না হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক নিয়ম মাফিক খাবার সরবরাহ দিচ্ছেন না। বি‌ভিন্ন মালামালের বাজার মূল্য থে‌কে বে‌শি দাম ধরারও অ‌ভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির বিরু‌দ্ধে।

সরকারি হাসপাতালে পথ্য সরবরাহের নিয়ম অনুযায়ী একজন রোগীর জন্য প্রতিদিন ১২৫ টাকা করে খাবার বরাদ্দ থাকে। সকা‌লের নাস্তার জন্য ৫২ টাকা ও দুপুর ও রা‌তের জন্য ৭২ টাকা।তাছাড়া ১ নং পথ্য হিসেবে একজন রোগী ৮৩ গ্রাম উন্নত মা‌নের পাউরুটি (পিস করা) অথবা ১ পাউন্ট চিড়া, ফা‌র্মের ডিম ১টি, দে‌শি কলা ১টি এবং চি‌নি। দুপুর ও রা‌তে খাবা‌রের জন্য উন্নত মা‌নের ই‌রি চাল ভাত ২৭৯ গ্রাম, দে‌শি মুশুরী ডাল ইত্যা‌দি সহ প্র‌তি‌দিন থাক‌বে ব্রয়লার মুরগির মাংস। য‌দিও বাজার দর এর চে‌য়ে ক‌য়েকগুন বে‌শি ধরা আছে মাংস না‌রিভূ‌রি বা‌দে ৪৬০ টাকা কে‌জি, জনপ্র‌তি পা‌বে ৬৮ গ্রাম মাংস।

‌কিন্তু হাসপাতা‌লে গি‌য়ে দেখা যায়, কোনো রোগী নিয়ম মাফিক খাবার পাচ্ছেন না। খাবারের পরিমাণও কম। মরা চালের ভাত, শুধু পানি ডাল, কাঁচা তেলের তরকারি, বাসি খাবার সরবরাহ করা হয়। যা কোনো রোগি খেতে পারছে না। ন্যূনতম সামর্থবানরা বাইরের থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন এবং বি‌ভিন্ন অ‌নিয়‌মের অ‌ভি‌যোগ কর‌ছেন রোগী ও স্বজনরা।

ভ‌র্তিকৃত রোগী অাজগর বেপারী (৫০), জয়নাল আ‌বে‌দিন (৪৫), শা‌হিন (৩৫), বিল্লাল (২৭) সহ অ‌নে‌কে অ‌ভি‌যোগ ক‌রে ব‌লেন, সকা‌লে বা‌সী রু‌টি সা‌থে কাচা কলা খে‌তে দেওয়া হয়ে‌ছে। দুপু‌রেও নিম্নমা‌নের চা‌লের ভাত, না‌মে মাত্র এক টুকরা মাংস। যা খাওয়ার উপ‌যো‌গী  না। এ কার‌ণে বে‌শির ভাগ রোগী খাবার না খে‌য়ে বাহি‌রে ফে‌লে দি‌চ্ছে। এমতবস্থায় রোগী‌দের খাবা‌রের মান উন্নয়‌নে নজরদারী বাড়া‌নোর দাবি রোগী ও স্বজন‌দের।

ঠিকাদারী প্র‌তিষ্ঠান‌ মেসার্স খান এন্ড সন্স এর মা‌লিক আব্দুল্লাহ আল মামুন খানের সা‌থে মু‌ঠো‌ফো‌নে যোগাযোগ করা হ‌লে তি‌নি ঢাকা থে‌কে এ‌সে কথা বল‌বেন ব‌লে ফোন রে‌খে দেন। এরপর তা‌কে আর ফোন করা হ‌লেও পাওয়া যায়‌নি।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতা‌লের মে‌ডি‌কেল অ‌ফিসার (আএমও) সুমন কুমার পোদ্দার ব‌লেন, গত ২ মাস ধ‌রে হাসপাতা‌লের ঠিকাদার খাবা‌রের বিষ‌য়ে আমার সা‌থে কোন যোগা‌যোগ ক‌রেন না। আ‌মি খোঁজ নি‌য়ে বিষয়‌টি দেখ‌বো। প্র‌য়োজ‌নে সরবরাহকৃত মালামা‌লের বিল দেওয়া হ‌বে না। এছাড়া নতুন টেন্ডা‌রের বিষ‌য়ে আবার রি-‌টেন্ডার আহবান করা হ‌য়ে‌ছে ব‌লে জানান এ কর্মকর্তা।