• আজ ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘২০-৪০ বছরের কোটায় থাকা লোকজন করোনার বিস্তার ঘটাচ্ছেন’

৪:২৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২০ আন্তর্জাতিক
corona

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তরুণদের মাধ্যমে করোনা বেশি ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। যাদের বয়স ২০, ৩০ ও ৪০ বছরের কোটায় তাদের মাধ্যমেই মহামারি ভাইরাসটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। যাদের অনেকেই জানেন না, তারা করোনায় আক্রান্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক তাকেশি কাসাই এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এই প্রবণতা করোনা মহামারিতে অধিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে যারা বয়স্ক, যারা দীর্ঘদিন ধরে কোন রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন কিংবা যারা অধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করেন তাদের জন্য এই তথ্য বেশি আশঙ্কার।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ৬০ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, শিশু ও যুবকদের মধ্যে সংক্রমণ হার বাড়ছে।

সংস্থাটি বলছে, ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ হার ০.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছ। ৫ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে যাদের বয়স তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার ০.৮ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৬ শতাংশে। আর যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছর, তাদের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার হার দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে। অথচ প্রথমদিকে এই হার ছিল ৪.৫ শতাংশ।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ২ লাখের বেশি মানুষ এবং মারা গেছেন ৭ লাখ ৭০ হাজারের বেশি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন উত্থান দেখা দেয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিকে তছনছ করে দেয়া এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিভিন্ন কোম্পানি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তাকেশি কাসাই বলেন, আমরা যা পর্যবেক্ষণ করছি তা শুধু পুনরুত্থানই নয়। বরং আমরা বিশ্বাস করি- এটি এক ধরনের সংকেত যে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মহামারি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে।

তিনি বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং মোকাবিলা কার্যক্রমে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশগুলো জীবন ও অর্থনীতির ওপর এর আঘাত হ্রাস করতে সক্ষম। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের জিনগত রূপান্তর ঘটলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটিকে ‘অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল’ হিসেবে দেখছে।