ক্যামেরা দেখেই শুয়ে পড়লেন রিজেন্টের শাহেদ

৬:৫১ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- সুস্থ হয়েও অসুস্থতার নাটক করলেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ ওরফে শাহেদ করিম। তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ফারমার্স ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদ করিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাকে দুদক প্রধান কার্যালয়ে আনা হচ্ছিল। পথে বুকে ব্যথা উঠে অসুস্থ বোধ করলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

এদিকে শাহেদ অসুস্থবোধ করলেও ক্যামেরায় ধরা পরে ভিন্ন চিত্র। ভিডিওতে দেখা যায়, অসুস্থতার অভিনয় করা শাহেদ সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় বসে ছিলেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। এ সময় তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো ছিল। জরুরি বিভাগে বসেই তিনি সুস্থ মানুষের মতই আচরণ করছিলেন ও কথা বলছিলেন। তবে সাংবাদিকের ক্যামেরা দেখা মাত্রই অসুস্থতার ভান করে হাসপাতালের বেডে শুয়ে পড়েন এবং রোগী সাজার চেষ্টা করেন।

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, মো. শাহেদকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এখন তিনি কার্ডিওলজির জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার ইসিজি রিপোর্ট ভালো। আরও কিছু পরীক্ষা করা হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাতেও শাহেদকে বিএসএমএমইউ-তে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এর আগে, গত ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ১৬ জুলাই আদালতে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাহেদ বলেছিলেন তিনি করোনায় আক্রান্ত। এরপর তার পরীক্ষা করে দেখা যায় সাহেদ করোনায় আক্রান্ত নন।

গতকাল পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) থেকে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা গুলশান করপোরেট শাখা থেকে আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এদিকে গত ১০ আগস্ট দুদকের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সাহেদের। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ গত ৬ আগস্ট আসামি সাহেদকে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিলেন।

২০১৫ সালে ফারমার্স ব্যাংকের ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৭ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ, ফারমার্স ব্যাংকের নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

গত ২২ জুলাই এনআরবি ব্যাংকের এক কোটি ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোহাম্মদ সাহেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়। এরপর থেকে সাহেদ পলাতক ছিল। গত ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।