শিপ্রার মামলা নেয়নি কক্সবাজার সদর থানা

১:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, কক্সবাজার- ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে পোস্টকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে গিয়েছিলেন শিপ্রা দেবনাথ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজার মডেল থানায় মামলা করতে যান শিপ্রা। তবে তার মামলা নেয়নি কক্সবাজার মডেল থানা।

মামলা না নেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি খাইরুজ্জামান বলেছেন, পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের নিহতে ঘটনাস্থলটি রামু থানার অর্ন্তগত। তাই শিপ্রা দেবনাথের আইনজীবীকে পরামর্শ দিয়েছি যে, সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করতে।

ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলার জন্য থানায় গিয়েছিলেন শিপ্রা দেবনাথ।

থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের শিপ্রার আইনজীবী মাহবুবুল আলম টিপু বলেন, ‘টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ নিহতের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামি শিপ্রা দেবনাথ জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার বেশকিছু ছবি-ভিডিও ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সামাজিকভাবে শিপ্রা বিপর্যস্ত হন। এ কারণে সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার আশায় সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও ঢাকা পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ ১০০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করতে থানায় এসেছি। কিন্তু, কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ আমাদের মামলাটি গ্রহণ করেনি। ঘটনাস্থল রামু থানা এলাকা হওয়ায় মামলাটি রামু থানা অথবা আইসিটি ট্রাইব্যুনালে করার পরামর্শ দিয়েছেন ওসি খায়রুজ্জামান।’

উপস্থিত শিপ্রার সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম টিপু বলেন, ‘বাদী শিপ্রা দেবনাথ মানসিকভাবে অসুস্থ। তিনি এখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। যখন সময় হবে তখন কথা বলবেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলাটি রামু থানায় করবো, নাকি আইসিটি ট্রাব্যুনালে করবো তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুর চেকপোষ্টে ৩১ জুলাই রাত ৯টার দিকে পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সহযোগি শিপ্রা দেবনাথ। ওইদিন ঘটনাস্থলে শিপ্রা না থাকলেও আরেক সহযোগি সিফাত ছিলেন। তবে হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে তাদের রুমে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মাদক উদ্ধারের অভিযোগে রামু থানায় শিপ্রার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলা থেকে জামিনে মুক্তি পান শিপ্রা দেবনাথ।

এদিকে পুলিশের মামলায় জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শিপ্রা দেবনাথের ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে পোস্টকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করবেন বলে এক ভিডিও বার্তা ঘোষণা দিয়েছিলেন শিপ্রা দেবনাথ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে শিপ্রা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।