• আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁয়ে হাঁসের খামার করে স্বাবলম্বী কলেজছাত্র নাহিদ

৪:৪৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পশ্চিম নারগুন ইউনিয়ন আনছারুল ইসলাম ছেলে কলেজছাত্র নাহিদ কুরাইশি হাসের খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছে।

জানা যায়, গত ৬ বছর পূর্বে ধার দেনা করে প্রথমে ২০-২৫টি হাঁস কিনে পালন শুরু করেন। এরপর নাহিদ কুরাইশিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এভাবেই শুরু হয় নাগিদ কুরাইশির এগিয়ে চলার পথা।

নাহিদ কুরেশি বর্তমানে সৈয়দপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুলে এন্ড কলেজে লেখাপড়া করছেন। গত মার্চ মাসে করোনাভাইরাস শুরু হলে তার কলেজটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে এ সময়টিকে কাজে লাগাতে নিজ বাড়িতে হাঁসের খামার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

বর্তমান তার খামারে তিন’শ হাঁস রয়েছে। এরমধ্যে গড়ে ডিম দেয় ১০০ থেকে ১৫০টির মতো। প্রতি হালি ডিম বাজারে পাইকারি হিসেবে ৪০/৫০ টাকা দরে প্রতিদিন মোট ডিম বিক্রি করেন ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা। এছাড়া ৩-৪ মাস পর এক একটি পরিপক্ক হাঁস বাজারে বিক্রি করেন গড়ে ৩৫০ টাকায়।

নাহিদ কুরাইশি জানান, তিনি হ্যাচারি থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনে এনে খামারে পালন করেন। প্রতিটি হাঁস পরিপক্ক হতে খাদ্য ওষুধ বাবদ খরচ হয় ৯০-১০০ টাকা।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৬ বছর ধরে হাঁস পালন করে আসছি, আর হাঁসের খামারের আয় থেকে বর্তমান গরু-ছাগল ও জমি কিনেছি এবং পরিবার- পরিজনকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বর্তমান দিনযাপন করে আসছি। অথচ ৫-৬ বছর পূর্বে অনাহারে-অর্ধাহারে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে কোনো রকমে দুবেলা দু-মুঠো ভাত খেতে পেরেছি।’

ঠাকুরগাঁও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সুত্রে বলেন, ‘খাল-বিল ও মৎস্য খামার হাঁস পালনের জন্য উপযোগী। হাঁস পালনের উপযোগী পরিবেশের কারণে অনেকেই নিজ উদ্যোগে হাঁসের খামার গড়ে তুলে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটাচ্ছেন। আমরা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে হাঁস পালনকারীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।