• আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আড়াইহাজারে শাকিল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই, গ্রেপ্তার ৩

৬:০৯ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২০, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

সৈয়দ সিফাত আল রহমান লিংকন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বালিয়াপাড়া এলাকার অটোরিকশা চালক শাকিল (১৮) হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার ( ২০ আগস্ট ) দুপুর ১টায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় পিবিআই পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ ১ বছর ৭ মাস পর চাঞ্চল্যকর অটোরিকশা চালক শাকিল (১৮) হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রকে কাজে লাগিয়ে মোবাইল ব্যবহারকরীর নিকট মোবাইল বিক্রেতা আসামি মো. আমিনুল ইসলামকে গতকাল রূপগঞ্জ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তার সঙ্গীয় আসামী মো. আরিফ চৌধুরীকে একই তারিখে রূপগঞ্জ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. আরিফ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিসিস্ট শাকিলের ব্যবহৃত অটোরিকশাটির আসামি মো. আরব আলীর হেফাজত হতে উদ্ধারসহ গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি মো. আমিনুল ইসলাম ও আরিফ চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ঘটনার ৭/৮ দিন পূর্বে সোনারগাঁ থানাধীন গাউছিয়া স্ট্যান্ডে অটোরিকশা চালক শাকিলের সাথে পরিচয় হয় এবং শাকিলের মোবাইল নম্বর তারা সংগ্রহ করেন। শাকিলের সাথে তারা মাঝে মধ্যেই মোবাইলে কথা বলত। আসামিরা উভয়ই যুক্তি করে যে, শাকিলের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি তারা চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করে দিবে। আসামি আরিফ চৌধুরী প্রেম করে বিবাহ করায় তার পরিবারের লোকজন তাকে বাসা হতে বের করে দেয়ায় আর্থিক সংকটে পরে।

এছাড়া আসামি আমিনুল ডিসিষ্ট শাকিলের অটোরিকশাটি দেখে লোভ সামলাতে না পারায় উভয় মিলে শাকিলের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি যে করেই হোক ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পরিকল্পনা করতে থাকে। একপর্যায়ে মামলার ঘটনার দিন আসামি আরিফ তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়ে (ডিসিস্ট) শাকিলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করে গাউছিয়া আসতে বলে। শাকিল তার অটোরিকশা নিয়ে মামলার ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গাউছিয়া আসার পর তারা দুইজন যাত্রীবেশে শাকিলের অটোরিকশায় উঠে তাকে নিয়ে সোনারগাঁ থানাধীন তাজমহল এলাকায় যাওয়ার কথা বলে রওয়ানা করে।

মামলার ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসিস্ট শাকিলকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ডিসিস্ট শাকিলের গলায় থাকা মাফলার ধরে আসামিরা ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে অটোরিক্সা থেকে ফেলে দিয়ে নাকে মুখে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। হত্যা নিশ্চিত করার জন্য ডিসিস্ট শাকিলের দুই চোখে রক্তাক্ত আঘাত করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোঃ আমিনুল ইসলাম ও আরিফ চৌধুরী ডিসিস্ট শাকিলের পকেটে থাকা টাকা, মোবাইল এবং শাকিলের ব্যবহৃত অটোরিক্সা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।

আসামি আমিনুল ইসলামের চাচাতো ভগ্নিপতি আসামি আরব আলী পেশাগতভাবে চোরাই অটোরিকশা কম দামে ক্রয় করে বিক্রি করে থাকে, তাই আসামি আমিনুল ও আসামি আরিফ চৌধুরী ডিসিস্ট শাকিলের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসলে আসামি আরব আলীর চোরাই অটোরিকশা জানা সত্বেও ক্রয় করে। আসামি আরব আলী ডিসিস্ট শাকিলের অটোরিকশাটি নতুন হওয়ায় কারো কাছে বিক্রি না করে নিজেই ব্যবহার করতে থাকে।

উল্লেখ্য, এজাহার থেকে জানা যায় পিবিআই কর্তৃক মামলা গ্রহণ করে ১৩/০১/১৯ খ্রিঃ। মামলার বাদি নিহতের ভাই আড়াইহাজারের বালিয়াপাড়া এলাকার মো.আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মো. সজিব (২৮)।

এজাহার নামীয় আসামির সংখ্যা অজ্ঞাতনামা। সন্দিহান আসামি মো. বিপ্লব (৩৮) কে সোনারগাঁ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। বর্তমানে জামিনে আছে। ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীকৃত আসামীরা হলেন, তারাব পৌরসভার কান্দাপাড়া এলাকার হারিচ চৌধুরীর ছেলে মোঃ আরিফ চৌধুরী, সরাইল থানার বড়ইছড়া এলাকার মৃত- মুর্তুজা আলীর ছেলে মোঃ আমিনুল ইসলাম (২৫), একই থানার বৈসর এলাকার মৃত- মারুল্লা ছেলে মোঃ আরব আলী (২৩)।

তাদের দুই জনের বর্তমান ঠিকানা তারাব পৌরসভার আটিপাড়া। ভিকটিমের ব্যবহৃত লুন্ঠিত মোবাইল ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।