অগ্নিকাণ্ডে রোগীর মৃত্যু, আপাতত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না ইউনাইটেডকে

৭:২৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২০, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে আগুনে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশের ওপর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ বেড়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ এ বিষয়ে হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তির আদেশ দিয়েছেন।

আপিল বিভাগ বলেছেন, হাইকোর্টের যেকোনো রিট বেঞ্চে রিট আবেদনকারীপক্ষের রিটটিগুলো উপস্থাপন করার স্বাধীনতা থাকবে। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের আইন অনুসারে যেকোনো আদেশ দেওয়ার স্বাধীনতা থাকবে। আবেদন (ইউনাইটেডের) নিষ্পত্তি করা হলো।

ফলে ইউনাইটেড হাসপাতালকে আপাতত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবীরা।

ইউনাইটেড হাসপাতালের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান, রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও তানজীব উল আলম। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অনীক আর হক, হাসান এম এস আজিম, মুনতাসির আহমেদ।

ইউনাইটেড হাসপাতালের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান পরে গণমাধ্যমকে বলেন, “আপিল বিভাগ আমাদের আবেদনটির নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন এই বলে যে, চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ অব্যাহত থাকবে। কিন্তু যারা রিট আবেদনকারী, তারা নিয়মিত বেঞ্চে রিট আবেদন উপস্থাপন করতে পারবেন শুনানির জন্য।

“নিয়মিত বেঞ্চ এই রিট আবেদনের উপরে আইনানুগভাবে যে আদেশ উপযুক্ত মনে করবে, সে আদেশ দিতে পারবে। হাই কোর্টের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগে চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশের কোনো প্রভাব পড়বে না।”

মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, “তার মানে হচ্ছে, ইউনাইটেড হাসপাতালকে আপাতত ৩০ লাখ টাকা করে দিতে হচ্ছে না। কারণ হাই কোর্টের ভার্চুয়াল একক বেঞ্চের আদেশের কোনো কার্যকারিতা থাকছে না।”

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিনও মনে করেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ যে আদেশ দিয়েছিল, আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে তা কার্যকারিতা হারিয়েছে।

তিনি বলেন, “৩০ লাখ টাকা করে দেওয়ার আদেশটি হয়েছিল ভার্চুয়াল একক বেঞ্চে। ওই বেঞ্চ যেহেতু রুল ইস্যু না করে অন্তবর্তী আদেশ দিয়েছে, তাই বিবাদীপক্ষের যুক্তি ছিল, রুল না দিয়ে একক বেঞ্চ কোনো অন্তবর্তী আদেশ দিতে পারে কিনা।

“পরে আপিল বিভাগ বিবাদীদের (ইউনাইটেড হাসপাতাল) আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়ে আমাদের (রিট আবেদনকারীদের) বলেছে নিয়মিত বেঞ্চে রিট উপস্থাপন করতে। নিয়মিত বেঞ্চ যে কোনো আদেশ দিতে পারবে। ফলে হাই কোর্টের আগের আদেশটির কার্যকারিতা থাকছে না।”

রিটকারী পক্ষের আরেক আইনজীবী হাসান এম এস আজিম বলেন, “ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ রুল জারি ছাড়াই ৩০ লাখ টাকা করে দিতে বলেছিল। আর ইতোমধ্যে নিয়মিত বেঞ্চ চালু হয়ে গেছে। তাই হাই কোর্টের নিয়মিত রিট বেঞ্চে আবেদনটি নতুনভাবে উপস্থাপন করে আবার শুনানি করতে বলেছে আপিল বিভাগ।

“আদালত বলেছে, যদি এই রিট আবেদনগুলো হাই কোর্টের কোনো বেঞ্চে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে আপিল বিভাগের আদেশের কোনো প্রভাব থাকবে না। রুল জারিসহ যে কোনো আদেশ দেওয়ার স্বাধীনতা উচ্চ আদালতের রয়েছে।”

এ সংক্রান্ত চারটি রিটের আইনজীবীরা বলেছেন, হাই কোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে তারা নতুন করে আবেদন উপস্থান করবেন।

উল্লেখ্য, আগুন লেগে কোভিড-১৯ ইউনিটের পাঁচ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবারকে ১৫ দিনের মধ্যে ৩০ লাখ টাকা করে দিতে ইউনাইটেড হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমঝোতায় আসতে না পারায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১৫ জুলাই এ আদেশ দেয়।

হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ আবেদন করে, যা ২১ জুলাই আপিল বিভাগের ভার্চ্যুয়াল চেম্বার কোর্টে ওঠে। সেদিন চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। সেইসঙ্গে আবেদনকারীপক্ষ (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি হয়।

এর আগে ২৭ মে হাসপাতালটির মূল ভবনের বাইরে আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লেগে লাইফ সাপোর্টে থাকা পাঁচ রোগীর মৃত্যু হয়। তাঁরা হলেন রিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভারনন অ্যান্থনি পল (৭৪), মো. মনির হোসেন (৭৫) ও মো. মাহাবুব (৫০)।