২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়

১২:১১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২০ ফিচার
aug

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত নৃশংস সহিংসতার যেসব ঘটনা ঘটেছে, ২১শে অগাস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা তার একটি। ঐ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।

২১ আগস্ট ২০০৪, দিনটি ছিল শনিবার। বিকেলে সন্ত্রাস ও বোমা হামলার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমাবেশ। প্রধান অতিথি সেই সময়ের বিরোধী দলের নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একটি ট্রাককে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ওইদিন বিকাল ৩টা থেকে দলটির নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে জড়ো হতে থাকে। বিকাল ৫টার দিকে বুলেট প্রুফ গাড়িতে সমাবেশস্থলে আসেন শেখ হাসিনা। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রায় ২০ মিনিট বক্তৃতা শেষে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল শুরুর ঘোষণা দিতে যান। কিন্তু এর আগ মুহূর্তে গ্রেনেড হামলা করা হয়।

গ্রেনেড হামলার সময় মঞ্চে বসা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা শেখ হাসিনার চারপাশে ঘিরে মানবঢাল তৈরি করেন। এতে শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে যান। এ সময় পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণও করা হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ বীভৎস রূপ নেয়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ছিন্নভিন্ন দেহ আর রক্ত। আশপাশে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

সেদিনের ঘটনায় আহত পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর মধ্যে অনেকে আজও গ্রেনেডের স্লিন্টারের দুর্বিষহ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। যন্ত্রণা নিয়ে তারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে যত নৃশংস সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর মধ্যে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা সবচেয়ে ভয়াবহ।

ইতিহাসের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতরা হলেন- সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ও আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমান, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স কর্পোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ কর্মী রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী, আমিনুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া। বাকি একজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, এএফএম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, মাহবুবা পারভীন, অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দীপ্তি, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনিসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।