‘১৫ আগস্টের মধ্য দিয়ে দেশে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু’- প্রধানমন্ত্রী

⏱ ১১:০৪ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২০ 📂 জাতীয়
pm

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় যে অবস্থা থেকে বেঁচে এসেছি তা খুবই কষ্টকর। এমনি সময় এই ধরনের হামলা হলে সবাই ছুটে আসতো সেবা দিতে। আমরা কোনো সেবা পাইনি। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলও তখন বন্ধ, কেউ সেবা নিতে পারেনা। এই হত্যা ক্যু ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পুরানো। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মধ্য দিয়ে দেশে হত্যা ক্যু ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়।

গ্রেনেড হামলার ঘটনার ১৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার উপর ছোঁড়া গ্রেনেডের দুটি অবিস্ফোরিত ছিলো। পরে সেগুলো আলামত হিসেবেও সংগ্রহ করা হয়নি। এমনকি হামলার পরপরই ওই জায়গা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয় আলামত নষ্ট করতে। কর্মীরা মানবঢাল বানিয়ে আমাকে না বাঁচালে আমি বাঁচতাম না। ২১ আগস্টের সঙ্গে যদি বিএনপি জড়িত নাই থাকবে তাহলে তারা হামলার আলামত কেন নষ্ট করলো। দুর্নীতির যে বিষবৃক্ষ বিএনপি রোপন করে গেছে তার ফল দেশ আজও ভোগ করছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সবার সহযোগিতার কথা ‍উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসে বহু নেতাকর্মী আমার ডাকে সাড়া দিয়ে মাঠে নেমেছে, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি তারাও অনেক দায়িত্ব পালন করেছে। বাংলাদেশের আর কোনো রাজনৈতিক দল এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। এখনও আমি সবাইকে অনুরোধ করবো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে। যারা সেবা দিচ্ছেন তারাও সচেতন থাকবেন।

তিনি বলেন, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছিলাম আবার করোনার জন্য সব স্থবির হয়ে গেছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সীমিত পরিস্থিতিতেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই এই দুর্যোগ থেকে আমরা শিগগিরই রেহাই পাবো।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর ওপর নানা অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়। সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর বোমা হামলাসহ দেশের ৫ শতাধিক স্থানে বোমা হামলা, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির প্রতিবাদে আমরা যখন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সমাবেশ ও র‌্যালি করতে যাই, সেই সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। এই হামলা চালিয়ে আমাকে হত্যা করাই ছিল তাদের প্রধান টার্গেট।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটা ঘটনা ঘটার আগে খালেদা জিয়া যে ভবিষ্যদ্বাণী ও বক্তব্য রেখেছিলেন, সেগুলোই তার প্রমাণ। কোটালীপাড়ায় বোমা হামলার আগে তিনি বলেছিলেন, ১০০ বছর ক্ষমতায় আসতে পারবে না আওয়ামী লীগ। আবার ২১ আগস্ট বোমা হামলার আগে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, শেখ হাসিনা কোনো দিন বিরোধী দলের নেতা হতে পারবেন না। এ বক্তব্যগুলো প্রমাণ করে যে এই গ্রেনেড হামলার সঙ্গে তারা জড়িত। তাছাড়া আলামত নষ্ট করা একটি প্রধান প্রমাণ।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ১৯৭১, ১৯৭৫ ও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় স্বাগত বক্তব‌্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।