‘সরকারের মদত না থাকলে গ্রেনেড হামলা সম্ভব হতো না’- প্রধানমন্ত্রী

২:২৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২০ জাতীয়
pmkm

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বর হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের মদত না থাকলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটানো সম্ভব হতো না।

শুক্রবার এ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন। খবর বাসস ও ইউএনবির।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় কার্যালয়ে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা একুশে আগস্টের হামলা হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদি সরকার (তৎকালীন) থেকে পৃষ্ঠপোষকতা না করা হতো, তাহলে ২১ আগস্টের মতো এমন গ্রেনেড হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। বিএনপি-জামায়াত সরকার এ হামলা চালাতে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের জড়ো করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং তাদের নিরাপদে বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তারা মনে করেছিল হামলায় আমি মারা গেছি। কিন্তু যখন জানল আমি মারা যায়নি তখন জঙ্গিদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিল তারা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি সরকার যদি এর সঙ্গে জড়িত নাই থাকবে তাহলে তারা আলামতগুলো কেন নষ্ট করবে? ওই গ্রেনেড হামলার পরেই সিটি করপোরেশনে তখন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা তার লোকজন নিয়ে এসে পুরো এলাকা ধুয়ে ফেলে।

আর যে গ্রেনেডটা ওখানে পাওয়া গিয়েছিল—একটা রমনা ভবনের কোণায়, আরেকটা ওই স্পটেই ছিল বিস্ফোরিত হয়নি। আরেকটা বিস্ফোরিত হয়েছে আমি যখন ওখান থেকে চলে আসি গাড়ি নিয়ে ঠিক তার পরেই। সেই গ্রেনেডটা একজন সেনা অফিসার এটিকে আলামত হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন বলে খালেদা জিয়া তাকে চাকরিচ্যুত করেছিল। কোন আলামতই তারা রাখতে চায়নি। তারপর আপনারা জানেন একটা নাটক সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে দলের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন তিন শতাধিক মানুষ। হামলায় বেঁচে যাওয়া অনেকে আজও পঙ্গুত্ব নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

ওই হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নেতারা মানববর্ম তৈরি করে তাকে রক্ষা করেন।