২ হাজার কোটি টাকা পাচার: ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেফতার

১:৩৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: সিআইডি’র দায়ের করা ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীম।

গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি পুলিশের একটি দল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান।

গত ২৬ জুন শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে প্রধান আসামি করে অবৈধ উপায়ে ২ হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি দায়ের করে সিআইডি। সেই মামলায় আদালতের মাধ্যমে রুবেল ও বরকতকে ৫ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। সে সময় এর সাথে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ করে রুবেল ও বরকত।

রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে এই মামলায় আরো গ্রেফতার হয়েছে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী ও জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় শামীমের নাম আসায় তাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তার বিরুদ্ধে ফরিদপুরে চাঁদাবাজী ও হামলার মামলা রয়েছে। সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন রাতে শহরের মোল্লাবাড়ি সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সুবল চন্দ্র সাহা গত ১৮ জুন ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ৭ জুলাই পুলিশের বিশেষ অভিযানে সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ আরও সাতজন।

এর পরে ঢাকার সিআইডি পুলিশ বরকত ও রুবেলের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্তে নামে। তদন্তে প্রাথমিক ভাবে ২ হাজার কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে অর্জন ও পাচারের তথ্য পাওয়া গেলে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করে সিআইডি পুলিশ।

এ ঘটনার পর বরকতকে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং রুবেলকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ নেতা সুবল সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনার পর ফরিদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গতকাল পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার, জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন, শহর যুব লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, ছাত্রলীগ সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীম প্রমুখ।