সংবাদ শিরোনাম
ধর্ষণে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুরের রুম থেকে অস্ত্র উদ্ধার | স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাঙা কুটিরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন আ.লীগ নেতা বাচ্চু | উইঘুর সংস্কৃতি বিলুপ্ত করতেই হাজার মসজিদ ধ্বংস করে চীন | যে কারণে এই মুহূর্তে সরকার পতনের আন্দোলন করবেন না নুর | টাঙ্গাইলে বন্যায় সড়ক বিভাগের ৬০ কিলোমিটার রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি | এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ, ছাত্রলীগের যাদের খুঁজছে পুলিশ | মসজিদে নামাজ পড়তে আসলেই উপহার পাচ্ছে শিশুরা | স্কুলছাত্রী নীলা হত্যার প্রধান আসামি মিজান গ্রেফতার | করোনায় বিশ্বে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে: ডব্লিউএইচও | এমসি কলেজ হোস্টেলে স্বামীকে বেধে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে |
  • আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সেই মনি-মুক্তার জন্মদিন পালিত

১০:৫০ অপরাহ্ণ | শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২০ রংপুর
moni

শাহ্ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকেঃ দেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আশীর্বাদে জোড়া লাগানো যমজ দুই শিশু দিনাজপুরের মনি-মুক্তা’র আজ পালিত হয়েছে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম্যাঞ্চলে বেড়ে উঠা মনি মুক্তা এখন ১২ বছরে পা দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতি’র কারণে এবার স্বল্প পরিসরে পালন করা হয়েছে এই আলোচিত মনি-মুক্তা’র জন্মদিন।

১১ বছর আগে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আশীর্বাদে জোড়া লাগানো যমজ দুই বোন আলাদা করা হয়। আজ ২২ আগস্ট ১২ বছরে পা দিলোজোড়া লাগানো যমজ দুই বোন মনি-মুক্তা। ১১ বছর আগে আলোচিত দুইবোন মনিমুক্তা আধুনিক বিজ্ঞানের উন্নয়নের ছোঁয়া এবং বাংলাদেশের চিকিৎসক এ আর খানের সাফল্যে নতুন জীবন ফিরে পায়। যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে সম্ভাবনাময় দ্বার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উম্মোচন করে।

আর সাফল্যকে কাজে লগিয়ে বাংলাদেশে প্রথম অস্ত্রপাচারে মাধ্যমে জোড়া লাগানো শিশুর সফল পৃথকীকরণ করা হয়। এই সাফল্যের ইতিহাস সুভাগ্যমতিবীরগঞ্জের জোড়া লাগানো যমজ দুই বোন মনি-মুক্তা।

বাবা মায়ের কোলে নানা চড়াই উত্তাল পেরিয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেড়ে উঠা মনি মুক্তা এখন ১২ব ছরে পা দিয়েছে। তারা এখন স্থানীয় পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।

শনিবার নিজ বাড়িতে পালন করা হয় মনি-মুক্তার জন্মদিন। প্রতি বছর বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মনি-মুক্তার বন্ধু-বান্ধবসহ পতিবেশী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে কেক কেটে জন্মবার্ষিকী পালন করা হলেও এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে ঘরোয়া পরিবেশে পালন করা হয় জন্মদিন। এমনটাই জানালেন মনি-মুক্তার বাবা জয় প্রকাশ পাল।

বড় ভাই সজল পাল জানান, আমার বোন মনি ও মুক্তা সুস্থ এবং ভালো আছে। তারা একে অপরের সাথে খেলা করে সময় কাটায়। বেশ সুন্দর করে কথা বলে। নিয়মিত স্কুলে যায়। করোনা পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে রের হলে এখন মাস্ক পরিধান করে।

জন্মদিনে দেশবাসীর কাছে দো’আ চেয়ে মনি-মুক্তা বলেন, আমরা চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। দেশবাসীর আর্শীবাদ এবং সহযোগিতা পেলে আমরা অবশ্যই আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবো।

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া প্রােেমর শরৎ চন্দ্র পালের ছেলে জয় প্রকাশ পাল। জয় প্রকাশ পালের স্ত্রী কৃষ্ণা রাণী পালের গর্ভে ২০০৯ সালের ২২ শে আগস্ট পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে সিজারিয়ান সেকশনে অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে মনি এবং মুক্তা জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেয়। পরে রংপুরের চিকিৎসকগণ ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে যমজ বোনকে অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে পৃথক করার পরামর্শ দেন।

তাদের পরামর্শ ক্রমে ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে মনি-মুক্তাকে ভর্তি করা হয়।অতঃপর ২০১০ সালের ০৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের সফল অপারেশনের মাধ্যমে মনি-মুক্তা ভিন্ন সত্তা লাভ করে। বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস। যাবিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে সম্ভাবনাময় দ্বার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

মনি-মুক্তার বাবা জয় প্রকাশ পাল বলেন, সে সময় গ্রামের মানুষ এটাকে অভিশপ্ত জীবনের ফসল বলে প্রচার করতে থাকত। সমাজের নানা কুসংস্কারে প্রায় এক ঘরে হয়ে পড়েছিলাম। সমাজের নানা অপবাদে গ্রামে আসিনি। হতাশার মাঝে স্বপ্ন দেখি মনি-মুক্তাকে নিয়ে। বিভিন্ন চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকি তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য। আমাদের স্বপ্ন বাস্তব হয় ডা. এ আর খানের কারণে। সেই মানুষটির কারণে আমাদের এই দুই সস্তানের নতুন করে বেঁচে থাকা।

মনি-মুক্তার মা কৃষ্ণা রাণী পাল জানান, ২০০৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে প্রথম ২১ ফেব্রুয়ারি পার্বতীপুরে বাবার বাড়িতে আসি। কিছুদিন সেখানে থাকার পর নিজগ্রাম বীরগঞ্জ উপজেলার পালপাড়ায় মনি-মুক্তাকে নিয়ে আসি। সৃষ্টি কর্তার আশীর্বাদে এবং ডা. এ আর খানের সাফল্যে আমরা মনি মুক্তাকে স্বাভাবিক ভাবে ফিরে পেয়েছি। আমরা সব কষ্ট ভুলে তাদেরকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মনি-মুক্তা এবং পরিবারের জন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন তিনি।

মনি-মুক্তার একমাত্র বড় ভাই সজল কুমার পাল জেলার খানসামা কলেজে বাংলা বিভাগে অনার্স শেষ বর্ষে লেখাপড়া করছেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা জয় প্রকাশ পাল।

পালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধনঞ্জয় পাল ও সহকারী শিক্ষিকা শিউলি আকতার জানান, মনি-মুক্তা এখন ৫ম শ্রেণিতে পড়ছে। তারা লেখাপড়ায় বেশ ভালো। সহপাঠীরা তাদের খুব ভালোবাসে। মনি শান্ত হলেও মুক্তা বেশ চটপটে বলেও তিনি জানান। লেখা-পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে নাচ শিখছে তারা। উপজেলা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে যমজ দুই বোন। তাদের সাফল্য অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা যোগায়।