• আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: রিজভী

⏱ ১১:১০ অপরাহ্ন | শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২০ 📂 ঢাকা
rezz

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকাঃ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং ছলে-বলে-কৌশলে ক্ষমতায় এসে এবং বিএনপি নেতাদের বিপর্যস্ত করে অভিযুক্ত করা। বড় ধরনের দেশীয় এবং বিদেশি চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের ফল হচ্ছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা।

শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় এবং সদ্যপ্রয়াত বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে এ কথা বলেন রিজভী। জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘২১ আগস্ট বোমা হামলা নিয়ে মিথ্যাচার অল্পস্বল্প নয়। সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা কোরাস গাইছেন। গানের মধ্যে যেমন কোরাস গায়, সেভাবে কোরাস গাইছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে অন্যান্য এমপি-মন্ত্রী। আমরা প্রথম থেকেই দেখে আসছি, এই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে বর্তমান সরকার, অর্থাৎ সেই সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা, তখন থেকেই কিন্তু ডাইভার্ট করার চেষ্টা করছে। আসল ঘটনাকে ঢেকে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

রিজভী আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে একটা ঘটনা ঘটিয়ে তৎকালীন বিএনপি সরকারকে ব্লেম দেওয়াই ছিল আওয়ামী ষড়যন্ত্রের অংশ। এটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, বর্তমান সরকার সে সময়ের বিরোধীদলকে এই ব্লেম দেওয়ার জন্যই পরিকল্পিত ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এর কারণ হচ্ছে, বিএনপি সরকারকে দেশে-বিদেশে অভিযুক্ত করা। সেদিন বোমা হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিচলিত হয়েছিলেন। তিনি দৌড়ে সিএমএইচে আইভি রহমানসহ আরো যারা আহত হয়েছিলেন, তাঁদের দেখতে গিয়েছিলেন, খোঁজখবর নিয়েছিলেন। সেখান থেকে দৌড়ে এসেছিলেন সুধা সদনে। কিন্তু সেদিন তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেন ঢুকতে দিল না আপনার ছাত্রলীগ-যুবলীগ। শুধু ঢুকতে দেয়নি তা না, এমনকি প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ করেছে, তাহলে এই কারণগুলো কী?

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমি প্রশ্ন করছি, এই কারণগুলো কী ছিল? আপনারা এটা করতে দেননি কেন? বিদেশ থেকে তদন্ত করার জন্য টিমও নিয়ে আসা হয়েছিল, কিন্তু সেই সময় তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগ কোনো সহযোগিতা করেনি। কারণগুলো এক ধরনের সুস্পষ্ট—বর্তমান সরকার, অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সেদিনের ঘটনা যে পরিকল্পিতভাবে করেছে, তার একটা প্রমাণ জনসভা আকস্মিকভাবে মুক্তাঙ্গন থেকে নিয়ে গেলেন তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে। এটা তো একটা বড় কারণ।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আন্দোলনের ফসল ১/১১। সরকার কিন্তু ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফাঁসায়নি। আপনারা জানেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিল কিন্তু আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যানের একটি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর আবার সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হলো, আবার নতুন করে তদন্ত করা হলো। যিনি তদন্ত করলেন, তিনি আওয়ামী লীগের নমিনেশন কিনেছিলেন। নৌকা মার্কার ছবি দিয়ে তিনি তাঁর এলাকায় পোস্টার মেরেছেন। এটাও তো একটা কারণ, আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটা ঘটিয়ে ছিল বিএনপির নেতৃত্বকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর জন্য।’