• আজ ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘যাদের প্রতি বিশ্বাস ছিল তারাই জাতির পিতাকে হত্যা করলো’

১:১৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, একটি জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদার সুযোগ করে দিয়েছিলেন, এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছিলেন তাকেই খুনিরা হত্যা করল।

তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা পারেনি। কিন্তু জাতির পিতার যাদের প্রতি বিশ্বাস ছিল ভালোবাসা ছিল তারাই জাতির পিতাকে হত্যা করে বিশ্বাসঘাতকতা করলো।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনের এই সভায় গণভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পেছনে আসল খলনায়ক ছিল জিয়াউর রহমান। তার সঙ্গে ছিল মোশতাক। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াকে করা হলো সেনাপ্রধান। খুনি মোশতাক হয়ে গেল রাষ্ট্রপতি। এ থেকেই বোঝা যায়, মোশতাক এবং জিয়াই এই হত্যায় জড়িত ছিল।’

মীর জাফর যেমন ইংরেজদের সঙ্গে মিলে বিশ্বাসঘাতকতা করে নবাব সিরাজ উদ দ্দৌলাকে হত্যা করেছিল, মোশতাকও জিয়ার সঙ্গে মিলে সেই কাজটাই করেছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সিরাজ উদ দ্দৌলাকে হত্যার পর ইংরেজরা নবাব বানিয়েছিল মীর জাফরকে। কিন্তু সে তিন মাসও নবাব থাকতে পারেনি। মোশতাকেরও সেই পরিণতিই হয়েছিল। সেও বেশিদিন ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। তাকে সরিয়ে দিয়ে একই সাথে সেনাপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতি হয়ে গেল জিয়া নিজে।’ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান যে জড়িত, সেটা খুনিরাও বলেছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৫ আগস্টে শুধু হত্যাকাণ্ডই ঘটানো হয়নি। ঘাতকদের উদ্দেশ্য ছিল, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধ্বংস করা। জিয়া বেছে বেছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সেনা অফিসারদের খুন করেছে। খালেদা জিয়াও একই পথ অনুসরণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির পিতাকে খুনিরা হত্যা করলেও তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। সেই আদর্শের পথ ধরেই আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণই তার সরকারের একমাত্র লক্ষ্য বলে জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে যেহেতু আমাদের অনেক রকম কর্মসূচি ছিল, করোনাভাইরাসের কারণে সব কর্মসূচি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। কিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে করেছি। তবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের লক্ষ্য থাকবে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যাতে খাদ্যে কষ্ট না পায়, চিকিৎসা সেবা পায় তাদের জীবনটা যাতে অর্থবহ হয় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

এছাড়া করোনা মহামারী নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে বলতে গেলে স্থবির করে দিয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও আমরা দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।