নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেন পাপিয়া ও তার স্বামী

২:৪১ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- অস্ত্র আইনের মামলায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঢাকা মহানগরের এক নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ রোববার (২৩ আগস্ট) এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ৩১ অগাস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করে দিয়েছেন। অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য পাপিয়া ও সুমনকে এদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু এবং তাপস পাল। অন্যদিকে দুই আসামির অব্যাহতির আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবু ফাতেহ মো. গোলাম ফাত্তাহ ও শাখাওয়াত হোসেন।

এ ট্রাইবুনালে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি তাপস পাল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পাপিয়া ও সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তারা দোষী না নির্দোষ।

“পরে তারা দুজনেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে এ মামলা থেকে অব্যাহতি চান। শুনানি শেষে বিচারক তাদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠন করেন।”

এর আগে গত ২৯ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর এসআই মো. আরিফুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিটে ১২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুজন সঙ্গীসহ পাপিয়া এবং তার স্বামীকে আটক করে র‌্যাব-১। ওই সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু মুদ্রা এবং দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করে।

পরে পাপিয়ার ফার্মগেটের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০টি গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড উদ্ধার করে।

ওই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি অস্ত্র ও একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।