২১ আগস্ট আ.লীগের দোসররা ‘ক্যালকুলেটেড’ বোমা হামলা করেছে: রিজভী

৩:২৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বোমা হামলার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনার জবাবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সেদিনের ঘটনায় আওয়ামী লীগের দেশি-বিদেশি এজেন্টরা জড়িত। তাদের দোসররা ক্যালকুলেটেড বোমা হামলা করেছে। এ ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয় বলে তাঁর দাবি।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় খালেদা জিয়ারও। তাঁর এ বক্তব্যের সমালোচনায় রিজভী বলেন, ‘২১ আগস্টসংক্রান্ত মামলায় ছয়বার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের ঘরের ছেলে কাহার আকন্দকে অবসর থেকে ডেকে এনে এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল মঈনুদ্দীন-ফখরুদ্দীনের সরকারের সময়ও তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য নেতৃবৃন্দের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ২১ আগস্ট বোমা হামলার মামলাকে রাজনৈতিকীকরণ করেছে।’

বোমা হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে চেয়েছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘কারণ, যারা বোমা হামলা করেছে, তারা আওয়ামী লীগেরই দোসর, বোমা হামলার ঘটনা ও পরবর্তী সময়ে আওয়ামী–প্রভাবিত মামলার কার্যক্রমে সেটাই প্রমাণিত হয়। এই কারণেই তারা ‘ক্যালকুলেটেড’ বোমা হামলা করেছে। তাদের সমর্থক দেশি-বিদেশি এজেন্টরাই এই ভয়াবহ হামলার সঙ্গে জড়িত বলে জনগণ বিশ্বাস করে। উদ্দেশ্য, আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের সহানুভূতি সৃষ্টি করা এবং বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় খালেদা জিয়ারও। তাহলে আমিও বলি, ২০০৯ সালে পিলখানা বিডিআর সদর দফতরের হত্যাকাণ্ডের দায়ও বর্তায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কারণ তিনি সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়া দেশের কথা যেন কেউ জানতে না পারে। অর্থবছরের শুরুতেই গত ৪৩ দিনে ১১ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়। এতেই প্রমাণিত হয় সরকারের রাজকোষ শূন্য হয়ে গেছে। রাজস্ব আহরণ কমে গেছে। রেমিট্যান্স আসা বিপুল পরিমাণে হ্রাস গেছে। মেগা প্রজেক্টসহ তথাকথিত উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিদেশে পাচার করেছে। আওয়ামী নেতাদের টাকা পাচারের কাহিনী আরব্য উপন্যাসকে হার মানায়।

ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, জেলা পর্যায়ের ছাত্র নেতারা যদি হাজার-হাজার কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে জাতীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠির লোকেরা কতো টাকার সমুদ্রে ভাসছেন সেটা এখন জানার বাকি। জনগণের অর্থকে কিভাবে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠি লোপাট করেছে তার নতুন নতুন লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসছে। এই সমস্ত অজানা লুটপাটের কাহিনী বেরিয়ে আসতে শুরু করায় আওয়ামী সরকার এখন দিশেহারা। সেজন্যই আকষ্মিকভাবে জিয়া পরিবার ও বিএনপির বিরুদ্ধে বানোয়াট কাহিনী প্রচারে একযোগে নেমে পড়েছেন- প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।