সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় শিক্ষক আজিজুরের ‘ড্রাগন’ ফল চাষ এখন কৃষকদের রোল মডেল

৫:৫৫ অপরাহ্ন | রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২০ দেশের খবর, ফিচার, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কুমিড়া পন্ডিতপুকুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমানের বসতভিটা ভাটরা ইউনিয়নের মাটিহাঁস গ্রামে। শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ও ভবিষ্যৎ সাফল্য আনতেই নিজ উদ্যোগে ‘ড্রাগন’ ফল চাষে মনোনিবেশ করেন। তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ একদিকে যেমন ব্যক্তিগত সাফল্য বয়ে এনেছে, অন্যদিকে তার দেখানো পথেই ওই গ্রামের অধিকাংশ কৃষিজীবিরাই এখন ঝুঁকে পড়ছে। ধান ও সবজি চাষের পাশাপাশি কেউ কেউ জড়িয়েছেন ব্যতিক্রমী শিক্ষক আজিজুর রহমানের ড্রাগন চাষে, যা এখন রোল মডেলে পরিণত হয়ে এলাকার কৃষকদের উজ্জীবিত করছে।

শিক্ষক আজিজুর রহমান পারিবারিকভাবে প্রাপ্ত জমির অন্যান্য ফসল ও সবজি চাষের পাশাপাশি উপজেলার মাটিহাঁস গ্রামে নিজের তিনবিঘা জায়গাজুড়ে ২০১৮ সালে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। প্রথমে নাটোর জেলা থেকে ৬০ টাকা করে ১০ টি ড্রাগন ফল গাছের চারা কিনে রোপন করেন। পরবর্তী সময়ে বাগানে যুক্ত করা হয় আরও ৫০টি চারা। চারা রোপণের এক বছরের মাথায় গাছে ফল আসে। ওই একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে রয়েছে ৬০টি থাই পেয়ারা, ৬৫টি আম গাছ ও ১৫০টি লিচু গাছ।  প্রায় প্রতিটি গাছে ড্রাগন ফল ধরেছে। ফল বিক্রি করে ৪০-৫০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়।

এদিকে ওই শিক্ষকের চাষকৃত ড্রাগন ফলের বাগান ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ ফুট উচ্চতার খুঁটি পেঁচিয়ে উঠেছে ড্রাগন ফলের গাছ। গাছে গাছে ঝুলছে চার থেকে পাঁচটি করে কাঁচা-আধা পাকা ড্রাগন ফল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ড্রাগন ফলের চাষপদ্ধতি জেনে নিচ্ছেন।

নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সব ধরনের মাটিতে ড্রাগন চাষ হয়। তবে উঁচু জমিতে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তিন মিটার পরপর গর্ত করে চারা রোপণ করতে হয়। বছরের যে কোনো সময় চারা রোপণ করা যায়। তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হলে ভালো। সিমেন্ট অথবা বাঁশের খুঁটিতে গাছ বেঁধে দিতে হয়। গাছে ফুল আসার ২০-২৫ দিনের মধ্যে ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন হয় ২০০-৬০০ গ্রাম। পরিপক্ব একটি গাছে সর্বোচ্চ ৮০টি ফল পাওয়া যায়। ছাদবাগানের টবেও এসব ড্রাগন ফল উৎপাদন করা সম্ভব।

ড্রাগন ফল চাষী শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, একটি গাছ পরিপক্ব হতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। পরিপক্ব গাছে ২৫ থেকে ৭০টি ড্রাগন ফল ধরে। পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য আসায় তিনি ড্রাগন ফলের চাষ আরও বাড়াচ্ছেন। বাজারে ড্রাগন ফলের চাহিদাও অনেক। ‘বাজারে এ ফলের চাহিদা এবং দাম দুটোই রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে আরও পরিচিত করে তুলতে আমি কম দামেই বিক্রি করছি। ড্রাগন ফলটি বেশ রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় তিনি মোবাইল ফোনে সরবরাহ দেয়ার অর্ডার পাচ্ছেন। আগ্রহীরা যে কেউ সহজেই দেশের মাটিতে বিদেশি ফল ড্রাগন চাষে সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

এদিকে উপজেলার সিংজানি গ্রামের নার্সারী ব্যবসায়ী আবদুল হালিম ১৩০ টি ড্রাগন গাছের চারা রোপন করেছেন। এখন কয়েকটি গাছে ফুল এসেছে। ফুল আসার ২০-২৫ দিনের মধ্যে ফল ধরে। তিনি বলেন, ড্রাগন চাষে ঝুঁকি কম, ফলের দামও বেশি দেখে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আদনান বাবু বলেন, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের উপযোগী। চার প্রকারের ড্রাগনের মধ্যে বাণিজ্যিক চাষের জন্য বাউ-ড্রাগন-১ (সাদা) ও বাউ-ড্রাগন-২ (লাল) উপযোগী। ড্রাগন চাষের সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষক আজিজুর রহমানের দেখাদেখি অনেকে ড্রাগন চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করার বিষয়ে সংশ্লিস্ট কৃষি বিভাগ এলাকার চাষিদের উৎসাহিত করছে।