🕓 সংবাদ শিরোনাম

সৌদি আরব ভ্রমণে বিদেশি পর্যটকদের উপর আর নিষেধাজ্ঞা থাকছে নাকক্সবাজারে এনজিও’র এম্বুলেন্সে মিললো ইয়াবা, আটক ১চাটমোহর শ্বশুর বাড়ি থেকে নির্যাতিত গৃহবধূ উদ্ধার, দেশীয় অস্ত্র জব্দপিরোজপুরে পথশিশুদের মাঝে যুবলীগের খাবার বিতরণকরোনায় মারা গেলেন ভূঞাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম১ আগস্ট থেকে শিল্প-কারখানা খোলালকডাউন আরও বাড়ানোর সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরফরিদপুরে প্রায় দুই যুগ ধরে গর্তে শিকলবন্দী রবিউল !রাতের আঁধারে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মূর‌্যাল ভাংচুর, কিশোরগঞ্জে বইছে নিন্দার ঝড়লামায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

  • আজ শনিবার, ১৬ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ৩১ জুলাই, ২০২১ ৷

পিএসজিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বায়ার্ন মিউনিখ


❏ সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২০ খেলা

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বায়ার্ন মিউনিখকে এগিয়ে দিলেন কিংসলে কোমান। অনেক চেষ্টা করেও গোল শোধ দিতে পারল না নেইমার-কিলিয়ান এমবাপের প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যার। ওই এক গোলই গড়ে দিলো ম্যাচের ভাগ্য। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতল হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। টানা ১১ ম্যাচে জিতে ষষ্ঠ বারের মতো শিরোপা ঘরে তুলেছে দলটি, তবে এবারের গৌরব ‘অপরাজেয় চ্যাম্পিয়ন’।

রোববার (২৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত একটায় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০১৯/২০ মৌসুমের ফাইনালে মুখোমুখি হয় বায়ার্ন মিউনিখ ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেই। খেলার ৫৯ মিনিটে সাবেক পিএসজি খেলোয়াড় কিংসলে কোম্যানের করা একমাত্র গোলে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিশ্চিত করে বায়ার্ন।

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার টুর্নামেন্ট উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের ফাইনালে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই বধের হাতিয়ার তাদেরই ঘরের খেলোয়াড়। কিংসলে কোম্যানের করা একমাত্র গোলে নেইমার-এমবাপেদের হাতছাড়া হয়েছে ইউরোপের শেষ্ঠত্ব। নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ফাইনাল খেলতে লিসবনে নেমেছিল পিএসজি। আর দুর্দান্ত বায়ার্নের সামনে কেবল সুযোগ মিসের মহড়া দিয়েছে নেইমার-এমবাপেরা।

টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত বায়ার্ন শিরোপা জিতল অপরাজিত থেকেই। বায়ার্ন যে রেকর্ড গড়ল তা নেই আর কারোরই। এবারের পুরো টুর্নামেন্টে মোট ১১টি ম্যাচ খেলেছে বায়ার্ন মিউনিখ আর অবিশ্বাস্য হলেও সত্য সবগুলো ম্যাচেই শেষ হাসি বাভারিয়ানদের। আর ২০১৩ সালের পর আরও একবার ট্রেবল বাভারিয়ানদের ঘরে। হানসি ফ্লিকের বায়ার্ন লিসবন রাঙিয়েছে লাল রঙে, নেইমার-এমবাপেরা ধূসর হয়ে গেছেন তাদের কাছে।

আর নিজেদের ১১তম ফাইনালে এসে ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়ে লিভারপুলের সঙ্গে তৃতীয় সর্বোচ্চ ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব ভাগাভাগি করেছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। আর এর আগে জার্মান জায়ান্টরা জিতেছিল পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। যার সর্বশেষটি এসেছিল ২০১২/১৩ মৌসুমের ফাইনালে বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে।

এবার তাই তো নিজেদের ষষ্ঠ শিরোপার লক্ষ্যেই মাঠে নামে লেভান্ডফস্কি-থমাস মুলাররা। ওদিকে ইউরোপিয়ান সফলতা পাওয়ার লক্ষ্যে কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করা পিএসজির দৌড় থামল ফাইনালে এসেই। নেইমার-এমবাপেদের ভুলের চরম মাশুল গুনল পার্সিয়ানরা। তাই তো ধারাভাষ্যকারদের সঙ্গে গলা মেলানোই যায়, ‘ইউ ক্যান্ট মিস চান্সেস এগেইনস্ট বায়ার্ন।’ অর্থাৎ ‘বায়ার্নের বিপক্ষে এভাবে সুযোগ হাতছাড়া করতে পারো না তোমরা।’

ম্যাচের শুরুতে এদিনে দাপট ছিল বায়ার্নের। টমাস মুলার-রবার্ট লেভানডোভস্কিরা বেশ চাপও তৈরি করে পিএসজি ডিফেন্সে। বিশেষ করে দ্রুতগতিতে পাস নির্ভর ফুটবল খেলে পিএসজি ডিফেন্সকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। পিএসজি নিজেদের প্রথম সুযোগ পেয়েছিল ফ্রি কিক থেকে। যদিও সেটি কাজে লাগাতে পারেনি তারা। এরপর ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বেরুতে থাকে নেইমাররা। এরপর দারুণ দুটি সুযোগ হাতছাড়া করেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ১৯ মিনিটে দারুণভাবে বল নিয়ে বায়ার্ন ডিফেন্সে ঢুকে পড়েছিলেন নেইমার। কিন্তু তার শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নয়্যার।

২২ মিনিটের মাথায় লেভানডোভস্কির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে নিরাশ হতে হয় বায়ার্নকে। এরপর সম্মিলিত আক্রমণ থেকে ডি মারিয়ার শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ২৫ মিনিটে চোটে পড়ে মাঠ ছেড়ে যান জেরম বোয়েটেং। তার বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস সুলে। ৩২ মিনিটে বায়ার্নের দারুণ আক্রমণ রুখে দেন পিএসজি গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দারুণভাবে জমে উঠে ম্যাচ। প্রথমে সুযোগ হাতছাড়া করে পিএসজি। এক মিনিট পর পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে বায়ার্ন। যদিও সেই পেনাল্টি লাভ করেনি তারা।

বিরতির পর আক্রমণ প্রতিআক্রমণে জমে উঠে খেলা। এক পর্যায়ে দু দলের খেলোয়াড়দের মাঝে উত্তেজনাও তৈরি হয়। তবে মূল লড়াইয়ে দু দলই কিছুটা খাপছাড়া ফুটবল খেলছিল এ সময়। অবশ্য ৫৯ মিনিটে ম্যাচের প্রথম হাসিটা হাসে বায়ার্ন। সংঘবদ্ধ এক আক্রমণ থেকে জশোয়া কিমিচের ক্রসে হেড দিয়ে গোল করেন কিংসলে কোম্যান। এগিয়ে গিয়ে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে বায়ার্ন। এ সময় বেশ চাপ তৈরি করে পিএসজি ডিফেন্সে।

তবে সুযোগ এসেছিল পিএসজির সামনেও। তবে নয়্যারের বাধায় আবারো হতাশ হয় প্যারিস দলটিকে। এ সময় বেশ কয়েকবার আক্রমণে গিয়ে বায়ার্নকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে পিএসজি আক্রমণভাগ, যদিও দেখছিল না সফলতার মুখ। শেষ দিকে গিয়ে দু দলই শরীরি ফুটবলের প্রদর্শন করেছে ব্যাপকভাবে। এ সময় সুযোগও তৈরি হয়েছে কম।

তবে অতিরিক্ত সময়ে অল্পের জন্য সমতা ফেরানো সুযোগ হাতছাড়া করে পিএসজি। ফলে ম্যাচে আর কোন গোল না হলে এক গোলের ব্যবধানে ইতিহাস গড়ে মাঠ ছাড়ে বাভারিয়ান জায়ান্টরা।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন