🕓 সংবাদ শিরোনাম

মানিকগঞ্জে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, ভাঙছে ফসলি জমির পাড়মঙ্গলবার থেকে ৭ জেলায় কঠোর লকডাউনবিএনপির এমপির কাছে খালেদার চেয়েও পরীমনির গুরুত্ব বেশি: তথ্যমন্ত্রীগৌরনদীতে জালভোট দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রে সংঘর্ষ, নিহত ১সুনামগঞ্জে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা: প্রধান আসামি সেই স্বাধীনের জামিনভালুকায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় ট্রাকের চালকসহ নিহত ৩বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির দুর্ধর্ষ কাহিনি প্রকাশব্যবসায়ীর হাত-পা বেঁধে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন তারাইউপি নির্বাচন: ভোলায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলি, নিহত ১টাঙ্গাইলে একদিনে রেকর্ড ১৬৫ জন করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু ১

  • আজ সোমবার, ৭ আষাঢ়, ১৪২৮ ৷ ২১ জুন, ২০২১ ৷

এলাকার উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই: কাউন্সিলর কাশেম মোল্লা


❏ সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- গৃহস্থালির বর্জ্য অপসারণের বিষয়কে ইস্যু করে একটি মহল তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আট নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর আবুল কাশেম মোল্লা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বৃষ্টির পানি জমে শাহ আলী থানাধীন উত্তর বিশিলের চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী তিন নম্বর রোড পরিদর্শনকালে শত শত জনতার উপস্থিতিতে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে রেজাউল করিম পূর্ণ নামে নিউ সি ব্লকের একজন বাসিন্দা কাউন্সিলর কাশেম মোল্লাকে জড়িয়ে দখলদারির অভিযোগ তুলে শাহ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন।

এ বিষয়ে রেজাউল করিম পূর্ণ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক সাক্ষরিত লাইসেন্সের মাধ্যমে ২০১৭ সাল থেকে আমি ওয়ার্ডের গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে আসছি। এমতাবস্থায় কয়েকদিন আগে আমার কর্মচারী বেলালের মুঠোফোন থেকে ফোন করে জাহিদ বিন সুলতান ও শামীম নামে স্থানীয় পরিচিত দুজন ব্যক্তি আমাকে জানান, আগামীকাল থেকে বাড়ি বাড়ি থাকে গৃহস্থালির বর্জ্য অপসারণ করার আগে কাউন্সিলর কাশেম মোল্লা তাকে সাক্ষাৎ করতে বলেছেন। না হলে কাল থেকে আপনার বর্জ্য অপসারণের দরকার নেই। আমি এতে রাজি না হলে মুঠোফোনেই তাদের সাথে আমার বাকবিতণ্ডা হলে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে আমি শাহ্ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করি। শাহ আলী থানার জিডি নম্বর -১৩৪।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদ বিন সুলতান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমি জন্মগ্রহণ করেছি এই এলাকায়। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে কোনো থানা বা মহলে আমার বিরুদ্ধে কোনো ক্লেইম নেই। সেদিন রেজাউল করিম পূর্ণের সাথে মুঠোফোনে আমার কথা হয়েছিল ঠিকই, কিন্ত কোনো বাক-বিতন্ডা হয়নি। তাছাড়া তিনি জিডিতে আমাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে, অস্ত্রধারী উল্লেখ করে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন সেটি কতটা ভিত্তি সম্পন্ন সে প্রশ্নটি তার বিবেকের উদ্দেশ্যেই ছুঁড়ে দিলাম। তাছাড়া কয়েকটি ভূঁইফোড় নিউজ পোর্টালে এ বিষয়ে মুখরোচক সংবাদ পরিবেশন করে। এই মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে ঘোর প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির আট নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাশেম মোল্লা বলেন, ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে ওয়ার্ডবাসীর সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্ট সকল সেবা, সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করনের দায়িত্বভার আমার উপরেই বর্তায়। তাছাড়া গৃহস্থালির বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নির্বিঘ্নে ওয়ার্ডের সকল বাসা, বাড়ি-ফ্ল্যাটে যাতায়াত করে। ফলে তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে সকল পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পরিচয় সম্পর্কে আমার অবশ্যই অবগত থাকা উচিৎ। এখানে দখলদারিত্বের কথা কিভাবে আসলো তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

এসময় সামনের জনদূর্ভোগ সৃষ্টিকারী সড়কটি দেখিয়ে তিনি আরো বলেন, মিরপুরের পানি নিষ্কাশনের সরকারি খালগুলো অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ার কারণে বর্ষাকালে গত আড়াই মাস যাবত বৃষ্টির পানি জমে ডুবে আছে সড়কটি। রাস্তার উপরে সাঁকো দিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের চলাফেরা করতে হচ্ছে। এখানে ময়লা পানি জমে থাকায় এডিস মশার বিস্তার হওয়াও স্বাভাবিক। মানুষের মাঝে নানা রোগব্যাধি ছড়াতে পারে। উদ্বুদ্ধ সমস্যা ও জনদূর্ভোগ দূরীকরনে এই রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই জরুরি। কাউন্সিলর হিসেবে রাস্তাটি সংস্কার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেউ যদি বলেন, আমি সংস্কারের নামে রাস্তাটি দখল করতে এসেছি- তাহলে অবশ্যই আমি দখলবাজ।

এসময় কাউন্সিলর আবুল কাশেম মোল্লা আরো বলেন, আপনারা এ সকল হাস্যকর অপপ্রচার থেকে বিরত হয়ে আসুন সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মিলিতভাবে এলাকার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ ও সমস্যার সমাধানে কাজ করি। অন্যথায় আমি জোরগলায় বলতে চাই- সকল প্রকার অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেই কাশেম মোল্লার জন্ম হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে ছাত্রলীগের হাত ধরে আমি রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি। দীর্ঘদিন সফলভাবে স্থানীয় যুবলীগকে নেতৃত্ব দিয়েছি। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শাহ্ আলী থানার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এলাকাবাসী ভালোবেসে ভোট দিয়ে আমাকে ডিএনসিসির আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছেন। যে কয়দিন আমি দায়িত্বে আছি, এলাকাবাসীর সার্বিক সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে দিতে চাই। তাই আসুন কেউ কারো ছোট খাটো ভুলভ্রান্তি, দোষত্রুটি না খুঁজে সম্মিলিতভাবে এলাকার উন্নয়নে নিজেদেরকে নিয়োজিত করি। তাহলে আট নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে আপনাদেরকে উপহার দিতে পারবো বলে আমি কথা দিচ্ছি।