• আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতার পর সব হত্যাকাণ্ডের দায় আ.লীগের: রিজভী

⏱ ৫:৫৩ অপরাহ্ন | সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২০ 📂 জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- স্বাধীনতার পর থেকে সব হত্যাকাণ্ডের দায় আওয়ামী লীগের বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করার রক্তাক্ত কর্মসূচি গ্রহণের উদাহরণ একমাত্র আওয়ামী সরকারের। বাম নেতা ও প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ সিকদারসহ সেই সরকারের আমলেই জাসদ ও বাম সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যার মধ্য দিয়ে খুনের রাজনীতির ঐতিহ্য তৈরি করে আওয়ামী লীগ। এরপর যতবারই তাঁরা ক্ষমতায় আসছেন, ততবারই পুলিশের কাস্টডিতে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের খুনসহ মিছিলে-জনসভায় আক্রমণ করে খুন করার নজির একমাত্র আওয়ামী লীগের। আর এবারের ১২ বছরের দুঃশাসনের সীমাহীন লুটপাট-টাকা পাচার-ব্যাংক লোপাটের পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের সমর্থক শব্দ হয়েছে আওয়ামী লীগ। বেপরোয়া দুর্নীতি আওয়ামী লীগের অলিখিত দলীয় ইশতেহার। গণতন্ত্রকে কবরের মধ্যে ঢুকিয়ে জনগণকে বশ মানাতে রক্তাক্ত বলপ্রয়োগের জন্য হুকুম প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হয় আওয়ামী মন্ত্রীদের মুখ থেকে।’

রিজভী বলেন, ১৫ আগস্ট মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খলনায়করা ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গেই রয়েছেন। কিন্তু কোনো অজানা রহস্যজনক কারণে প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা বলেন না। ১৫ আগস্টের সাথে আওয়ামী লীগের লোকজনই জড়িত তা দিবালোকের মতো যেমন সত্য ঠিক তেমনি সুপরিকল্পিতভাবে ২১ আগস্টের ঘটনায়ও আওয়ামী লীগের আপনজনরা জড়িত।

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘এটি নতুন করে বলার আর প্রয়োজন নেই যে আওয়ামী লীগের নেতারাই রক্তাক্ত লাশ ডিঙিয়ে নতুন করে শপথের মাধ্যমে মন্ত্রিসভা গঠন করে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে।’

তিনি বলেন, ‘খন্দকার মোশতাক ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাকশালের মন্ত্রী ছিলেন এবং বাকশালের পার্লামেন্টেই খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাঁর অধীনে কার্যক্রম চালাতে থাকে। খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভার শপথ পরিচালনা করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাকের সময়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও মন্ত্রিপরিষদের অনেক সদস্যই শেখ হাসিনার অধীনে রাজনীতি করেছেন। কিন্তু তাঁদের কখনো খলনায়ক বলেননি তিনি।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সরকারি চাকরি করতেন এইচ টি ইমামের মতোই। সেনাবাহিনী সরকারের একটি বিভাগ। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ব্যক্তি, প্রথম ব্যক্তি নন। যিনি সেনাবাহিনীর প্রধান, তাঁর কোনো দায় নেই, দায় নাকি জিয়াউর রহমানের। তৎকালীন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহর হাতেই ছিল সমগ্র সেনাবাহিনীর কমান্ড। অথচ আওয়ামী লীগের এমপি হওয়ার কারণে তিনি অভিযুক্ত নন। কারণ, যে যত অপরাধই করুক, শেখ হাসিনার আনুগত্য করলে তাঁর সাত খুন মাফ।’