• আজ ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কিশোরকে মদ খাইয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি, আটক ৮

১০:২৪ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২০ দেশের খবর, সিলেট

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় টিকটকখ্যাত শরিফকে মদ খাইয়ে টিকটক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার ঘটনায় ৮ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারা সবাই জেলার বিভিন্ন উপজেলার কলেজে অধ্যায়নরত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়। টিকটকখ্যাত শরিফ মিয়া (১৩) উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

এর আগে রোববার রাতে আটককৃতদের এবং ভিকটিম শরিফকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় ভিকটিম শরিফের বড়ভাই শামীম বাদী হয়ে আটক ৮ জনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও আইসিটি আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

জানাযায়, চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষের দিকে বাদাঘাট বাজারের সততা স্টোরের মোজাম্মেল হকের ফেসবুক আইডি থেকে অভিভাবকদের সচেতন করার জন্য ও প্রশাসন, সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কিশোর শরিফের ছবি ও একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। ওই ভিডিওতে শরিফ জানায়, বাদাঘাটের কয়েক যুবক তাকে জোর পূর্বক মদ খাইয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের টিকটক ভিডিও তৈরি করে তা ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে।

বিষয়টি সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএমের নজরে আসলে উনার দিকনির্দেশনায় তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান ও বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই মাহমুদুল হাসান বিষয়টি গোপনে তদন্ত শুরু করে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে শরিফের দেওয়া তথ‌্য অনুযায়ী ভিডিও ভাইরালের ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ও এই ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করায় উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মৃত আঃ গফুরের ছেলে মোজাম্মেল হক (২২) সহ মদ খাওয়ানো ও টিকটক তৈরীর সাথে জড়িত থাকায় উত্তর ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের শেখ আব্দুর রহমানের ছেলে আলম শেখ (২৩), আনোয়ার হাসেন রুমানের ছেলে তারেক (২২), নাজিম উদ্দিনের ছেলে দীপু (২২), বাচ্চু মিয়ার ছেলে রনি (১৭), বাদাঘাট গ্রামের খুরশিদ মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ্ (১৬), দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের পাগলপুর গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে মনির মিয়া (১৯) ও হাবিবুর রহমান সংগ্রামের ছেলে সাগর (২১) কে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ভিকটিমের বড় ভাই শামীম বাদি হয়ে মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আটককৃত ৮ জনকে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে তাদের আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেন। আর পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যহত আছে।