সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি, মোদিকে দুষলেন রাহুল | ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন বাহরাইনের যুবরাজ | ভারতসহ তিন দেশের নাগরিকদের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা | আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ‘হিডেন হিরো’ উপাধি পেল ঝিনাইগাতীর মোশারফ | মানিকগঞ্জে নতুন আরও ১৪ জনের করোনা শনাক্ত | হাতীবান্ধায় উপ-নির্বাচনে ১০ জনের মনোনয়ন পত্র দাখিল | বাগেরহাটে কোষ্টগার্ডের অভিযানে ৩ লাখ বাটা পোনা অবমুক্ত | সাওতাল কিশোরীকে ধর্ষণ, বিমান ও সেনা সদস্যসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা | ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে নৌকায় তুলে ধর্ষণ! ধর্ষক গ্রেফতার | ‘দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না’- স্বাস্থ্যমন্ত্রী |
  • আজ ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী হয়ে গেছে ফেসিয়াল লাভলী, কুমারিকা তেল কণ্যারিকা!

১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২০ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বাজারে প্রচলিত কুমারিকা তেল হয়ে গেছে কণ্যারিকা। ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী হয়ে গেছে ফেসিয়াল লাভলী। সুগন্ধি ফগ হয়ে গেছে ফগস। দুবছরের অধিক সময় ধরে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নিয়ে নকল কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করা হতো এসব প্রসাধনী।

এসব নকল পণ্য বিক্রির জন্য মোড়ক তৈরি করা হয় খুবই চাকচিক্যভাবে। এমনভাবে মোড়কে নাম লিখা হয় কেউ খুব মনোযোগ দিয়ে না দেখলে বুঝার উপায় নেই প্রসাধনীগুলো নকল।

গত দু’বছরের অধিক সময় ধরে কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলি এলাকা থেকে বাজারজাত করা হয় এসব প্রসাধনীর কারখানাটিতে সোমবার যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসন।

তারা কারখানাটিকে সিলগালা করে দেন সেইসাথে এর মালিক আবু সুফিয়ানকে ছয় মাসের জেল ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

নিজেই মালিক ও টেকনিশিয়ান হিসেবে এ কারখানায় পাঁচটি দেশি, ২৫টি বিদেশি প্রসাধনীর নকল পণ্য তৈরি করতেন আবু সুফিয়ান। তার বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নবাবপুর এলাকায়। নগরীর মোগলটুলি এলাকায় তিন কক্ষের ভাড়া বাসায় এসব পণ্য তৈরি করেন আবু সুফিয়ান।

আবু সুফিয়ান জানান, ঢাকা থেকে ক্যামিকেল ও অন্যান্য অনুষঙ্গ এনে তিনি এসব প্রসাধনী তৈরি করতেন। তিনি নিজেই কারখানার মালিক। নিজেই ক্যামিস্ট। পণ্য বাজারজাত করতেনও নিজেই। তিনি ট্রেড মার্কের জন্য আবেদন করেছেন। ব্যবসা পরিচালনার জন্য আর কোন অনুমোদনপত্র তার নেই।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম জানান, আবু সুফিয়ারনের ওই কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, তিনজন মহিলা প্রসাধনী মোড়কজাত করছেন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এসব প্রসাধনী। কারখানায় কোন ল্যাব নেই। প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা আটা-ময়দা। পাশে খোলা ড্রামে তেল ও ক্যামিকেল। ড্রামের আদা-ময়দা, তেল ও ক্যামিকেল মিশ্রণ করার একটি যন্ত্র। এগুলো ব্যবহার করেই তৈরি করা হতো প্রসাধনীগুলো।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাহী হাকিম আবু সাঈদ জানান, ওই কারখানার মালিকের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রসাধনীর আদলে নকল প্রসাধনী তৈরি করতেন তিনি। তাই তাকে ছয় মাসের কারদণ্ড ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জানতে চাইলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের পরিচালক মজিবুর রহমান জানান, মোগলটুলিতে যেভাবে প্রসাধনী তৈরি হয়েছে সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরুপ। এগুলো ব্যবহারে চর্মরোগ এবং ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা বেশি।