সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে শৈলকুপায় বঙ্গবন্ধুর এক রাত কাটানো সেই বাড়ি

◷ ২:৫৩ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২০ ইতিহাস-ঐতিহ্য, তথ্য জাদুঘর, ফিচার
09083

মনিরুজ্জামান মনির, শৈলকুপা প্রতিনিধি- দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বহন করে চলেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাখরবা গ্রামের একটি ঘর। ১৯৫৪ সালের কোন এক সময় এই ঘরটিতে রাত্রি যাপন করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে জড়াজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে মাটির ভিটার এই ঘরটি। অথচ শৈলকুপা উপজেলার অধিকাংশ মানুষ জানে না সেই ইতিহাস। যারা জানে, তাদের কেউ কেউ এক নজর দেখতে আসে এই ঘরটি। এখানে এলে কিছুটা হলেও আপনিও হবেন স্মৃতিকাতর।

এ ঘরটি তৎকালিন পাকিস্তানের জাতীয়, প্রাদেশিক পরিষদ ও স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত অধ্যক্ষ কামরুজ্জামানের বসত বাড়ি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী কামরুজ্জামানের পক্ষে নৌকা প্রতীকের প্রচরণায় তিনি এই অজপাড়াগা বাখরবা গ্রামে এসেছিলেন।

বর্তমানে বাড়িটিতে বসবাসকারী কামরুজ্জামানের ভাতিজা আশফার আহাম্মেদ বেলাল জানান, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কামরুজ্জামান। ঝিনাইদহ-শৈলকুপা-হরিণাকুনাডু আসনে যুক্তফ্রন্ট এর নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনে প্রচারণার জন্য বঙ্গবন্ধু ট্রেনযোগে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া হয়ে খোকসা আসেন। পরে দলবল নিয়ে গড়াই নদী পার হয়ে বাখরবাতে আসেন। বাড়ির পাশে একটি পুকুরে গোসল করেন। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিকালে কাতলাগাড়ি বাজারে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেন। রাতে কামরুজ্জামানের বাড়িতে গেস্ট রুমে রাত্রিযাপন করেন। সকালে তিনি ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

এ সময় সফরসঙ্গী হিসাবে ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দীন ও শেখ আজিজ। বঙ্গবন্ধুর রাতে অবস্থান নেওয়া সেই ঘরটি আজ ইতিহাসের সাক্ষী।