সেপ্টেম্বরের শেষে আবারও বন্যা হতে পারে: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

৭:০৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- আগামী সেপ্টেম্বরের শেষে দেশে পঞ্চম দফা আরেকটি বন্যা হতে পারে। একইসঙ্গে অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসও আছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে বন্যা পরবর্তী সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

গত ২৬ জুন থেকে চার দফা বন্যা হয়েছে জানিয়ে ড. এনামুর রহমান বলেন, বন্যাকবলিত জনগণের জন্য আমরা পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সেটা বিতরণ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা দেশের সব জেলা থেকে যে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট যেটা ডি-ফরমে পাঠানো হয়, সেটা আমরা পেয়েছি। সেটা পাওয়ার পর আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা ডেকেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের যে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সেটা নির্ধারণ করা। সেই অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় তাদের কর্মপরিকল্পনা এখানে পেশ করেছেন। সেটা আমরা নোট করেছি। সেটা নিয়ে আগামীতে পুনর্বাসন পরিকল্পনা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালু করতে বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন সেই পরিমাণ অর্থ তিনি (প্রধানমন্ত্রী) খরচ করতে বলেছেন। আরও অর্থের প্রয়োজন হলে তিনি বরাদ্দ দেবেন। তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ঘরবাড়ির ওপরে। কারণ পানি নেমে গেছে, এখন লোকজন বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এই সময়ে বাড়িতে গিয়ে যদি তাদের ঘরগুলো ঠিক না থাকে তাহলে তাদের কষ্ট হবে। সেজন্য তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রত্যেকটি মানুষের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করে দিতে বলেছেন। সেজন্য টিন ও গৃহ নির্মাণ মজুরি বাবদ নগদ অর্থ তিনি দিতে বলেছেন। সেই ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের জন্য কর্ম সৃজনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণ বাবদ মঞ্জুরি দেয়া হবে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা রাস্তা মেরামত ও পুনর্নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তবে এবারের বন্যা ১৯৯৮ সালের বন্যার থেকে দীর্ঘস্থায়ী নয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৮ সালের বন্যাছিল ৬৯ দিন, এবারের বন্যা ছিল ৪৬ দিন। ক্ষয়ক্ষতিও ১৯৯৮ সালের বন্যার চেয়ে এবার কম।

পানি নেমে যাওয়ায় বন্যাদুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেজন্য মেডিকেল টিমগুলোকে সেখানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের কার্যক্রম চলমান রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।