• আজ ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

এবারের বন্যায় ৫ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকার ক্ষতি: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

৯:৫০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
bonna

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ দেশে চার দফার বন্যায় ৫ হাজার ৯৭২ কোটি ৭৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে এ তথ্য জানান ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

এনামুর রহমান বলেন, বন্যাকবলিত ৩৩ জেলাসহ মোট ৪০ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৯৮ সালে দেশের ৫০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়, আর এবার প্লাবিত হয়েছিল ৩০ ভাগ এলাকা। এবারের বন্যা ৪৬ দিন স্থায়ী ছিল।

তিনি জানান, এবার ২৬ জুন প্রথম দফায় বন্যা শুরু হয়। ১০ জুলাই দ্বিতীয় দফা, ১৯ জুলাই তৃতীয় দফা এবং ১৮ অগাস্ট উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হয়।

“বাড়ি গিয়ে যাতে মানুষের কষ্ট না হয় এজন্য প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রত্যেক মানুষের ঘরবাড়ি পুননির্মাণ করে দিতে বলেছেন। বন্যয় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতে টিন এবং নগদ অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যা পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি নির্মাণ ও মেরামতে প্রত্যেক পরিবারকে ঢেউ টিন ছাড়াও নগদ টাকা দেওয়া হবে।

“বন্যা পুনর্বাসনে রাষ্ট্রকে যেন আরও বন্যা সহনীয় করতে পারি সেজন্য আরও ১১০টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, ২০টি ঘুর্ণিঘড়আশ্রয় কেন্দ্র এক বছরের মধ্যে করা হবে। … আশা করি আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বন্যা সহনীয় রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।”

বন্যার সময় দুর্গতদের দ্রুত সরিয়ে আনতে ৬০টি উদ্ধার বোট নির্মাণের চুক্তি হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে এসব পাওয়া যাবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এনামুর বলেন, নগদ টাকা, জিআর চাল, শিশু খাদ্য, গবাদিপশু, শুকনা খাবার, টিন, গৃহ নির্মাণের জন্য পর্যান্ত বরাদ্দ আছে। নতুন করে শুকনা খাবার, টিন ও কম্বলের টেন্ডার হয়েছে, আমরা সেগুলো পাব। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, অতিরিক্ত লাগলে আমরা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। এবার বন্যার সময় ২০ হাজার ৩১০ মেট্রিকটন চাল, চার কোটি ৪১ লাখ টাকা নগদ, শিশু খাদ্য কিনতে এক কোটি ৫৮ লাখ টাকা, গো-খাদ্য কিনতে তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা, এক লাখ ৮১ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ঘর নির্মাণের জন্য সাড়ে ১৯ লাখ টাকা, ৬৫০ বান্ডিল ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া করোনাভাইরাস ও বন্যাকে মাথায় রেখে কোরবানির ঈদের আগে এক কোটি ছয় লাখ পরিবারকে এক লাখ ছয় হাজার মেট্রিকটন চাল দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।