সেতু নেই, বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার হচ্ছেন পীরগাছার ছয় গ্রামের মানুষ

১:৫০ অপরাহ্ণ | বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর- রংপুরের পীরগাছায় ছাওলা ইউপির তিস্তার শাখা নদে ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ছয়টি গ্রামের মানুষ পারাপার হচ্ছেন। চরের প্রধান বাহন ঘোড়ার গাড়ি সাঁকোর নিচ দিয়ে স্রোতে ভাসিয়ে পার করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে তিস্তার তীরবর্তী ছাওলা ইউপির গাবুড়া, হাগুরিয়া হাসিম, পূর্ব কাশিয়াবাড়ী, দক্ষিণ গাবুড়ার চর ও উলিপুর উপজেলার গোড়াইপিয়ার চর, রামনিয়াস্বর গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াত করছেন। সাঁকোটি অপ্রশস্ত ও নড়বড়ে। ফলে পথচারীরা যাতায়াত করতে পারলেও রিকশা-ভ্যানসহ ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারেনা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর ধরে বর্ষার শুরুতেই তারা নিজেরা চাঁদা তুলে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সরু সাঁকোটি নির্মাণ করে আসছেন। এ বছর সাঁকোটি তৈরি করতে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে সাঁকো দিয়ে যাতায়াতকারীদের চাঁদা দিতে হচ্ছে। সাঁকো নির্মাণকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, ৮০ হাজার টাকা তোলার পর আর কাউকে চাঁদা দিতে হবে না।

সাঁকো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আবু বক্কর বলেন, আমাদের চলাফেরা, স্থানীয় পাওটানার হাটে পণ্য আনা নেয়ায় অনেক কষ্ট হয়। তাই এলাকাবাসী মিলে নিজেদের চাঁদার টাকায় বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেছি।

গাবুড়া গ্রামের বাসিন্দা মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, অপ্রশস্ত সাঁকো দিয়ে গ্রামে কোনো রিকশা-ভ্যান চলাচল করতে পারে না। চরাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে একমাত্র বাহন ঘোড়ার গাড়ি। অথচ সেই ঘোড়ার গাড়ি স্রোতে ভাসিয়ে পার করতে হয়। এ কারণে উৎপাদিত পণ্যের পরিবহন আর রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, ব্রিজ না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ পারাপার হচ্ছেন। বতমানে ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। উপরের নির্দেশ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব।