‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে স্থায়ী সমাধানের জন্য বহুপাক্ষিক আলোচনা চালাচ্ছে সরকার’

৯:১৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২০ জাতীয়
kader

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে স্থায়ী সমাধান খোঁজার জন্য দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিকসহ বহুপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভায় যুক্ত হন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাপ ও আন্তর্জাতিক আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও মিয়ানমার তার জায়গায় অনড় রয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা অস্থায়ীভাবে সমাধান করলে পরবর্তীতেও তার প্রভাব বাংলাদেশের উপর পড়বে। তাই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনার জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর থেকে যতবার বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে তাদের সময় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র নীতি বলতে আদৌ কিছু ছিল কি?

“যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেদের স্বার্থে রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের মুখে নীতির কথা মানায় না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ভিশনারি নীতি মেনে সুদক্ষভাবে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে এই ভীত গড়ে দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যা ১৯৭২ সালের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।”

তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুঝতে পারেন নাই, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ কোনো পক্ষ নয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে পক্ষ হল- মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে উদ্ভূত ঘটনায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের জনগণের সহমর্মিতা ও মানবিকতার দিকটি বিবেচনা করে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল সরকার।

তিনি বলেন, জীবিকার চাকা সচল রাখতে সরকার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খুলে দেওয়ার যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন বিএনপি দেশকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রাকাশ করেছিল। কিন্তু আল্লাহর বিশেষ রহমত ও শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও সময়োচিত সিদ্ধান্তের ফলে আজ এতদিন পরেও বিশেষজ্ঞদের অবাক করে দিয়ে আশঙ্কা অনুযায়ী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে সংক্রমণ ছড়ায়নি। ঈদে গণপরিবহন চলুর সময়ও বিএনপির অভিযোগের তীর ছুড়েছিল।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ক্রমাগত লোকসান ঠেকাতে পাটকল বন্ধে সরকার যে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং শ্রমিকদের সব পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাস্তব সম্মত। পাটকল বন্ধের ফলে বেকার শ্রমিকদের পূর্নবাসন করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। শ্রমজীবী মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা।

শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরুসহ অনেকে।