মোদির চায়ের দোকান নিয়ে কোনও তথ্য নেই!

৯:৪১ অপরাহ্ণ | বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২০ আন্তর্জাতিক
modi

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নিজের চা-ওয়ালা অতীতের কথা প্রায়ই শোনা যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে। ছোটবেলায় গুজরাটের ভাডনগর স্টেশনের বাইরে বাবার চায়ের দোকানে কাজ করার অভিজ্ঞতার গর্বের সঙ্গেই শোনান তিনি। কিন্তু সেই দোকান সম্পর্কে কোনও তথ্যই নেই পশ্চিম রেলের কাছে। তাই তথ্য জানার আইনের আওতায় এক ব্যক্তির করা আবেদনে ইতি টেনে দিল সেন্ট্রাল ইনফরমেশন কমিশন।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে পশ্চিম রেলের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। রেল বিভাগের এই বক্তব্যের পর আবেদন খারিজ করে দেয় কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন।

মোদির বাবা দামোদরদাস মোদির চায়ের দোকান সম্পর্কে তথ্য জানতে ২০১৮ সালে পশ্চিম রেলের সেন্ট্রাল পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারের কাছে আবেদন জানান হরিয়ানা আদালতের আইনজীবী পবন পারেখ। কোন সালে চায়ের দোকানটির লাইসেন্স দেয়া হয় তা জানতে চান তিনি। কিন্তু সেই আবেদনের কোনও জবাব না আসায় সরাসরি সেন্ট্রাল ইনফরমেশন কমিশনে আপিল করেন তিনি। তারও কোনও জবাব না পাওয়ায় সম্প্রতি দ্বিতীয় বার আপিল করেন।

দ্বিতীয় আপিলের পর জানানো হয় যে, অনেক দিন আগের ঘটনা এটা। আহমেদাবাদ ডিভিশনের কাছে এই সংক্রান্ত কোনও রেকর্ড নেই। চলতি বছর ১৭ জুনের আগে পবন পারিকের কোনও আপিল হাতে আসেনি জানিয়ে দ্বিতীয় আপিলটিও খারিজ করে দেন ইনফরমেশন কমিশনার অমিতা পাণ্ডবে।

এর আগে ২০১৫ সালে এ তথ্য জানার আইনে আবেদন জমা দেন কংগ্রেস সমর্থক হিসেবে পরিচিত বিশিষ্ট সমাজকর্মী তেহসিন পুনাওয়ালাও। স্টেশন চত্বর ও ট্রেনে চা বিক্রির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান তিনি। কিন্তু ওই সংক্রান্ত কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই বলে সেই সময় তাকে জানিয়ে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ।

নরেন্দ্র মোদির জীবনী লেখক নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় এ সম্পর্কে বলেন, নির্বাচনে জয়ী হতে মোদি ও তার দল এই ইস্যুটি ব্যবহার করেছে। কারণ আমাদের দেশে রাজনৈতিক নেতাদের ছোটবেলাটা যদি খুব দারিদ্রের মধ্যে কেটে থাকে, সেটা একটা বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত হয়। তিনি তাই করেছেন। যদিও মনমোহন সিং খুবই সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন, অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু তিনি সেই ইতিহাস নিজের ভাবমূর্তি তৈরি করতে কাজে লাগাননি। ইমেজ তৈরির জন্য এটাকে ব্যবহার করা যেতে পারে, আর তাই করা হয়েছে।