মুসলিম উম্মাহর জন্য মহররমের গুরুত্ব ও করনীয়

১০:০০ অপরাহ্ণ | বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২০ ইসলাম
mohorrom

ইসলাম ডেস্কঃ হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররম। ইসলামের তাৎপর্যপূর্ণ মাসগুলোর মধ্যে মহররম অন্যতম। মাসটি মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ‘মহররম’ শব্দের অর্থ অলঙ্ঘনীয় পবিত্র। পবিত্র কুরআনে এ মাসকে হারাম বা সম্মানিত মাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এ মাসের এক দিকে যেমন রয়েছে ফজিলত, তেমনি অন্য দিকেও রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। তাই তো প্রতি বছরই আরবি এ মাস যখন মুসলমানদের কাছে উপস্থিত হয়, তখন তারা এ মাসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি পরকালীন পাথেয় হাসিলের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।

মহররম মাস ফজিলতপূর্ণ বিধায় পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জেনে রাখো! এই চারটি মাস বড় ফজিলত ও বরকতপূর্ণ। তোমরা এই মাসগুলোতে পাপাচার করে নিজেদের ওপর জুলুম করো না’ (সূরা তাওবা: ৩৬)। উল্লিখিত চার মাস বলতে মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ মাসকে বুঝানো হয়েছে। তন্মধ্যে সর্বাগ্রে হলো মহররম মাস।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।’ মুসলিম। এ হাদিসে মহররমকে ‘শাহরুল্লাহ’ তথা আল্লাহর মাস বলা হয়েছে। এর দ্বারা বোঝা যায়, মহররমের মর্যাদা কত বেশি।

‘এক ব্যক্তি হজরত আলী (রা.)-কে প্রশ্ন করলেন, রমজানের পর কোন মাসের রোজা রাখার জন্য আপনি আমাকে আদেশ করবেন? আলী (রা.) বললেন, ঠিক এ প্রশ্নটিই এক ব্যক্তি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে করেছিলেন। আমি সেখানে বসে ছিলাম। তিনি প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, তুমি যদি রমজানের পর কোনো মাসকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা রাখতে চাও তাহলে মহররমকে গুরুত্ব দাও। কেননা, মহররম হলো আল্লাহর মাস।’

মহররমের ফজিলত : নামকরণ থেকেই প্রতীয়মান হয় এ মাসের ফজিলত। মহররম অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এ মাসকে ঘিরে, সঙ্গে সঙ্গে এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এ মাসটি মর্যাদাপূর্ণ। তাই এ মাসের নামকরণ করা হয়েছে মহররম বা মর্যাদাপূর্ণ মাস।

মহররম মাসে করণীয় আমলের মধ্যে রয়েছে নফল রোজা রাখা। কেননা, রমজানের পরেই রয়েছে মহররমের মর্যাদা। হাদিস শরিফে আছে, ‘হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেছেন, ‘রমজানের পর রোজার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হলো মহররম এবং ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ তাহাজ্জুদের নামাজ’ (সহিহ মুসলিম : ২৮১২)। অন্যত্র এসেছে নবীজী সা: রমজানের রোজার পরই মহররম মাসের ১০ তারিখের অর্থাৎ আশুরার রোজার গুরুত্ব দিয়েছেন।

আশুরার রোজার ফজিলত : রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তাই এর পূর্ণ অনুসরণ ও আনুগত্যের মধ্যেই নিহিত রয়েছে উম্মতের কল্যাণ। এ ছাড়া অসংখ্য হাদিসে আশুরার রোজার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকটি হাদিস শুনি- ‘হজরত আবু কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়। (মুসলিম-১১৬২)। ‘রাসুল (সা.) বলেন- ‘রমজান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা আল্লাহর মাস মহররমের আশুরার রোজা।’ (সুনানে কুবরা-৪২১০)

আশুরার দিনে অন্য একটি আমল : ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে আপন পরিবার-পরিজনের মধ্যে পর্যাপ্ত খানাপিনার ব্যবস্থা করবে, আল্লাহপাক পুরো বছর তার রিজিকে বরকত দান করবেন। (তাবরানি : ৯৩০৩)

উল্লিখিত হাদিস সম্পর্কে আল্লামা ইবনুল জাওযিসহ অনেক মুহাদ্দিস আপত্তিজনক মন্তব্য করলেও বিভিন্ন সাহাবি থেকে ওই হাদিসটি বর্ণিত হওয়ায় আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতিসহ অনেক মুহাক্কিক আলেম হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। (জামিউস সগির-১০১৯)

অতএব যদি কেউ উপরোক্ত হাদিসের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে ওই দিন উন্নত খানাপিনার ব্যবস্থা করে, তাহলে শরিয়তে নিষেধ নেই। তবে স্মরণ রাখতে হবে, কোনোক্রমেই যেন তা বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনের স্তরে না পৌঁছে।