• আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েও করোনা ভাইরাসে সম্মুখযোদ্ধা আয়শা ছিদ্দিকা

১১:৪৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২০ খুলনা
aysa

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: গর্ভাবস্থা উত্তেজনা ও প্রত্যাশায় পূর্ণ একটি বিশেষ সময়। স্বাভাবিক সময়ে এই অভিজ্ঞতাটি সুখকর হয়ে থাকে, তবে করোনাভাইরাস রোগের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করা সন্তান প্রত্যাশী মায়েদের জন্য এই সময়টি ভয়, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় ভরা। তবুও সবকিছুকে পেছনে ফেলে মানুষের সেবায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে করোনা প্রতিরোধে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে চলেছেন নারীরা।

করোনা ঠেকাতে চিকিৎসক থেকে শুরু করে জনপ্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির সব অঙ্গনে ফ্রন্টলাইনে রয়েছেন নারীরা। গুরুত্বপূর্ণ সব ভূমিকায় পুরুষের সঙ্গে সমানতালে লড়ছেন তাঁরা। করোনাভাইরাস সঙ্কটকালে এমন একাধিক মানবতার গল্প তৈরি করে চলেছেন হাজারো নারী। যেখানে ভুক্তভোগীর আর্তি শুনছেন, রাত-বিরাতে সেখানেই ছুটে যাচ্ছেন তারা। তাদের-ই মাঝে একজন আয়শা সিদ্দিকা। তিনি সাতক্ষীরা জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা।

৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি! অপরদিকে আছে আরো এক শিশু সন্তান। অথচ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের মরদেহ দাফন ও সৎকারের জন্য আলেম, মুয়াজ্জিন, হাফেজ, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নারী-পুরুষদের সমন্বয়ে ১৫০জন সদস্য’র একটি সেচ্ছাসেবী টিম গঠন করেছেন তিনি।

করোনা ভাইরাসে মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারের যাবতীয় খরচ ও এসব কাজে জড়িত স্বেচ্ছাসেবীদের সুরক্ষা সামগ্রীর সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করছেন তিনি। যেখানে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে অধিকাংশ রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িক্ত থেকে পিছু-পা হচ্ছেন সেখানে অন্তঃসত্ত্বা হয়েও আয়শা সিদ্দীকার নেতৃত্বে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ওই স্বেচ্ছাসেবী টিমটি। অন্তঃসত্ত্বা থাকা সত্ত্বেও জীবনের ঝূকিঁ নিয়ে জনগণের সেবা করায় কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয়েছে সম্মামনা। দেশব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছেন তিনিসহ তার টিমটি।

সাতক্ষীরা জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকার কাছে এসকল বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন নারীকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধা অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে হয়। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্দ্যোগে একটি বিশেষ টিম গঠন করে করোনাক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

‘ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে আমরা জেলার বিভিন্ন জায়গায় করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১২ জন ব্যক্তির লাশ বহন, গোসল, কাফন, জানাজাসহ লাশ দাফন বা সৎকার করেছি। যতোদিন করোনার সংক্রমণ হওয়া থেকে দেশের জনগণ সম্পূর্ণ ভাবে পরিত্রাণ পাবেনা ততোদিন দেশ ও জনগণের সেবায় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে তার টিম এসকল কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতক্ষীরা সদর সার্কেল) মীর্জা সালাউদ্দীন বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন বা সৎকার করাতে বিপাকে পড়ে যাচ্ছেন ভূক্তভোগি পরিবার। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন বা সৎকার করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সেচ্ছাসেবকলীগ নেত্রী আয়শা ছিদ্দিকার মতো যদি স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদসহ সমাজের সকল স্তরের জনগণ করোনায় আক্রান্ত মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যায় তাহলে দ্রুত সময়ের ভিতরে করোনার সংক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ হুসাইন শাফায়াত জেলা সেচ্ছাসেবকলীগ নেত্রী আয়শা সিদ্দিকার প্রশংসা করে বলেন, অন্তঃসত্ত্বা হয়েও করোনার সময়ে আয়শা ছিদ্দিকা যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে সেটা প্রশংসনীয়। কেননা, করোনায় আক্রান্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন বা সৎকার করাতে বিপাকে পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তবে সেচ্ছায় যেকোন ধর্মাবলম্বীদের দাফন বা সৎকারে আয়শা সিদ্দিকার নেতৃত্বাধীন টিম জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাওয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন বা সৎকার করার যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিলো সেটা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে ভূক্তভোগি পরিবার।